খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Sunday, 15 March 2026 - 08:50 PM
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ - ০৮:৫০ অপরাহ্ণ

Dyfi News : ত্রিপুরায় ‘জঙ্গল রাজ’ ও প্রজন্ম ধ্বংসের অভিযোগে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ ডিওয়াইএফআই-এর

Dyfi News
1 minute read

Dyfi News : ত্রিপুরায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বেকারত্ব, রক্ত সংকট এবং নেশা চক্রের বিস্তার নিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল ডিওয়াইএফআই। রবিবার আগরতলায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে মানবিকতা ও সামাজিক সম্পর্ককে ধ্বংস করে রাজ্যে “জঙ্গল রাজ” কায়েম করা হয়েছে।

ডিওয়াইএফআই-এর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বামপন্থী কর্মী-সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগানো এবং মিছিল-মিটিং বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। সংগঠনের দাবি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক হামলাই নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও এক ভয়ঙ্কর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রক্তদান শিবিরেও হামলার ঘটনা ঘটছে। তাদের বক্তব্য, রক্তদান করতে আসা স্বেচ্ছাসেবকদেরও আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকি বেলুনিয়া এলাকায় এক রক্তদাতাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তারা বলেন, শুধুমাত্র রক্তদান করার অপরাধে তাকে নৃশংসভাবে আঘাত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে রক্ত সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

ডিওয়াইএফআই নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগরতলার জিবি হাসপাতালসহ বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংকে প্রতিদিন রক্তের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তাদের অভিযোগ, একদিকে রক্ত সংকট তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে হাসপাতালগুলিকে কেন্দ্র করে রক্তের দালাল চক্রও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি এই ধরনের একটি ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে, রাজ্যে বিপুল সংখ্যক সরকারি শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না। তাদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৫২ হাজার সরকারি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজারের বেশি শিক্ষক পদ, প্রায় ১ হাজার অধ্যাপক পদ, ১ হাজারের বেশি চিকিৎসক পদ এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০ ইঞ্জিনিয়ার পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে রয়েছে। ফলে উচ্চশিক্ষিত যুবক-যুবতীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে দাবি করা হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটি। তাদের বক্তব্য, শিক্ষক নিয়োগের জন্য টেট পরীক্ষা নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর অন্তত একবার নেওয়ার কথা থাকলেও গত সাত বছরে মাত্র চারবার পরীক্ষা হয়েছে। এতে চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন ডিওয়াইএফআই নেতারা।

এছাড়াও রাজ্যে নেশা দ্রব্যের প্রবেশ ও পাচার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সূত্রে প্রতিদিন রাজ্যে মাদক প্রবেশ করছে এবং এর ফলে নতুন প্রজন্ম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, প্রশাসনের ভূমিকা এই ক্ষেত্রে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করা হয় সাংবাদিক সম্মেলনে। ডিওয়াইএফআই নেতাদের অভিযোগ, রাজ্যে একাধিক রাজনৈতিক হামলার ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দোষীদের গ্রেফতার করা হয়নি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী নেতাদের ওপরও হামলার অভিযোগ তুলে তারা বলেন, প্রকাশ্যে হামলা হলেও তার বিচার হয়নি।

এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে ডিওয়াইএফআই একটি প্রচারপত্র প্রকাশ করেছে। সংগঠনের দাবি, গত আট বছরে বিজেপি সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, বাস্তবে তার অধিকাংশই পূরণ হয়নি। তাই এই আট বছরকে তারা “প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের আট বছর” হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই প্রচারপত্র প্রকাশ অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের দুই প্রতিনিধিকে সামনে আনা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন পল্লবী শীল, যিনি নিহত বামপন্থী নেতা বাদল শীলের কন্যা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এসএফআই-এর সর্বভারতীয় কমিটির সদস্য পূজা ঋষি দাস, যিনি আগরতলা পুরনিগম নির্বাচনে বামফ্রন্ট প্রার্থী ছিলেন। ডিওয়াইএফআই নেতাদের মতে, নতুন প্রজন্মের এই দুই মুখের হাত ধরেই তারা রাজ্যের মানুষের কাছে বর্তমান পরিস্থিতির বার্তা পৌঁছে দিতে চান।

তারা আরো জানান, প্রজন্ম বাঁচাও” স্লোগানকে সামনে রেখে তারা আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে প্রচার অভিযান চালাবে। তাদের দাবি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ডিওয়াইএফআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে এই প্রচারপত্র রাজ্যের প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা যায়।

For All Latest Updates

ভিডিও