Kokborok Language Day : ৪৮ তম ককবরক দিবস কে কেন্দ্র করে প্রতি বারের মতই এবারেও রাজধানীর বুকে এক সুবিশাল অনুষ্ঠান এর আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা সেজে গুজে প্রভাত ফেরি তে অংশ নেয়। দুপুরে তাদের আহার করানোর দায়িত্ব ছিল দপ্তরের । সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা ও করা হয়। কিন্তু সেখানেই বাধে গণ্ডগোল। ২০০ টাকার প্যাকেট এ মেলে ২০ টাকার একটি ভাঙ্গই সঙ্গে একটি টিস্যু পেপার। আর সেই থেকেই সরকারি টাকা নিয়ে দুর্নীতি করার অভিযোগ উঠে আসে।
উল্লেখ্য, ১৯শে জানুয়ারি রাজধানীর রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেই আগত দের খাবার দাবারের ব্যবস্থা করা হয়। সকাল ৭টা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শেষে প্রায় ১২ টা নাগাদ আগত দের হাতে তুলে দেওয়া হয় খাবারের প্যাকেট গুলো। প্রথমে প্যাকেটের আকার আয়তন দেখে সকলে খুশিই ছিল। কিন্তু প্যাকেট খুলতেই সেই খুশি মুহূর্তে উধাও হয়ে যায়। কারণ সেই প্যাকেটে ছিল একটি মাত্র ভাঙ্গই , সঙ্গে টিস্যু।
বিষয়টি সেখানে উপস্থিত সংবাদ কর্মীদের নজর কাড়ে। সাথে সাথে এই নিয়ে দপ্তরের এক কর্মীকে জিজ্ঞেস করতেই উনি ব্যাখ্যা দিতে থাকেন যে তাড়া নাকি সবার জন্যে আলাদাআলাদা প্যাকেটে ভাঙ্গই, কেক, ফ্রুটি , কমলা ও জলের ব্যবস্থা করেছেন। একই প্যাকেটে সব কিছু জায়গা হবে না এজন্যে আলাদা আলাদা ভাবে নাকি তাদের কে সব কিছু দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গোটা দিনের অনুষ্ঠান শেষে ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত এক ছাত্র কে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞেশ করলে সে জানায় যে তাদের একটি মাত্র প্যাকেট দেওয়া হয়েছে এবং সেই প্যাকেট টি বিশাল বড় হলেও তার ভেতরে একটি ভাঙ্গই ছাড়া আর কিছুই ছিল না। একই কথা জানায় আরও এক ছাত্র। পরপর দুজনের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর সন্দেহ কিছুটা কেটে যায়।
তবে আরও স্পষ্ট ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে যেখানে সমস্ত খাবার প্যাকেট গুলি মজুদ ছিল সেখানে ছুটে যান সংবাদ কর্মীরা। আর সেখানে জেতেই ধরা পরে আসল ছবি। সিল করা প্যাকেট গুলো খুলতেই দেখা যায় ভেতরে সেই এক খানা ভাঙ্গই ছাড়া আর কিছুই নেই। যার দাম খুব বেশি হলে ২০ কিংবা ২৫ টাকা পরবে। এদিকে সূত্রের খবর প্রতিটি খাবার প্যাকেটের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২০০ টাকা । তবে এটিই প্রশ্ন এই দুশো টাকার খাবার গেল কোথায় ? তবে কি এভাবেই সরকারি টাকার সিংহ ভাগ আত্ম্যস্যাত করে নিচ্ছে একাংশ দুর্নীতি বাজ টেন্ডার ধারিরা ? দপ্তর এই ঘটনার তদন্ত করবে কি ?
উল্লেখ্য, এদিন শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে এই গোটা অনুষ্ঠান টি আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী কিশোর বর্মণ ও উপস্থিত ছিলেন। এতো বড় আয়োজন বাবদ সরকারি যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে তার থেকেই একাংশ দুষ্ট চক্র কিভাবে অর্থ রাশি সাফ করে দিয়ে যায় , সেটা কি তদন্ত করে দেখার বিষয় নয় ?
বলা বাহুল্য, পূর্বতন সরকারের আমলে এধরনের ককবরক দিবসে শিক্ষার্থীদের নিত্য নতুন সব খাবার দাবার দেওয়ার চল না থাকলেও অনুষ্ঠান এর শুরু তে ফ্রুটি, জল, পাউরুটি কলা আর অনুষ্ঠান শেষে একটি মিষ্টির প্যাকেট দিয়ে অন্তত বাড়ি ফেরানো হত। কিন্তু কালের পরিবর্তনের সাথে সেই সব বদলেছে। কিন্তু আরও একটা জিনিস বদলেছে, সেটা হচ্ছে মানবিকতা এবং স্বচ্ছতা।



