Agartala Municiple Corporation : ২০২৬ সালের আগরতলা পুরনিগম নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যজুড়ে বাড়ছে জনঅসন্তোষের সুর। পাঁচ বছরের শাসনকালে আগরতলা পুরনিগমের অধীনে থাকা ৫১টি ওয়ার্ডে কতটা উন্নয়ন হয়েছে, তা নিয়েই এখন প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। একদিকে শাসক দল পুরনিগম দখলের চতুর্থ বর্ষপূর্তি পালন করছে, অন্যদিকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বাসিন্দারা।
পুরনিগমের মোট ৩৫০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডেও একই চিত্র ধরা পড়েছে। এই ওয়ার্ডের কর্পোরেটর জাহ্নবী দাস চৌধুরীর ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন এলাকার প্রবীণ নাগরিকরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মৌলিক সমস্যার সমাধান হয়নি।
এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দার দাবি, কর্পোরেটরের বাড়ির সামনেই দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনার স্তুপ জমে রয়েছে, অথচ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্য এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সরকারপক্ষের সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও তাঁর স্বামী এখনও প্রাপ্য ভাতা পাননি। বারবার জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের বক্তব্য, কর্পোরেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও শুধু আশ্বাসই মিলেছে। সমস্যার সমাধান আর হয়নি। এলাকার মানুষ বলছেন, বছরের পর বছর ধরে তাঁরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবা নিয়েও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের।
বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, কর্পোরেটর নিয়মিত এলাকায় আসেন না, খোঁজখবর নেন না। নির্বাচনের সময় ছাড়া জনসংযোগ কার্যত নেই বললেই চলে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
পুরভোটের আগে এই ধরনের অভিযোগ শাসক দলের জন্য কতটা অস্বস্তি বাড়ায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। আগরতলা পুরনিগমের একাধিক ওয়ার্ডে উঠে আসা এই অসন্তোষ আগামী নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলবে, সেটাই দেখার।



