TMC Hapania News : দীর্ঘ ২২ বছর ধরে কাজ করার পর হঠাৎ করেই ছাঁটাই হওয়া রোগী পরিচারিকাদের চাকরি ফেরানোর দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে হাতজোড় করে কাতর আবেদন জানালেন টিএমসি হাসপাতালের একাংশ রোগী পরিচারিকা। বৃহস্পতিবার প্ল্যাকার্ড হাতে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন প্রায় শতাধিক অসহায় মহিলা।
জানা গেছে, প্রায় ২২ বছর আগে রোগী পরিচারিকা সমিতির মাধ্যমে এই কর্মীদের হাসপাতালে নিয়োগ করা হয়েছিল। বর্তমানে প্রায় ১৫০ জন রোগী পরিচারিকাকে কোনো রকম নোটিস ছাড়াই কাজ থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। ফলে গত দুই মাস ধরে উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
রোগী পরিচারিকাদের অভিযোগ, তাঁরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো ধরনের বেতন বা ভাতা পান না। সম্পূর্ণরূপে রোগীর পরিজনদের কাছ থেকে পাওয়া পারিশ্রমিকের উপরই তাঁদের জীবিকা নির্ভর করে। এর ফলে সরকারি কোষাগার থেকে কোনো অর্থ ব্যয় না হলেও অজানা কারণে হঠাৎ তাঁদের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এর ফলে শতাধিক পরিবারের রুজি-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে।
বিক্ষোভস্থলে এক রোগী পরিচারিকা বলেন, “আমরা ২২ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। এই কাজ করেই সংসার চালিয়েছি, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করিয়েছি, অসুস্থ স্বামী বা পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ করে আমাদের বন্ধ করে দেওয়ায় আজ দুই মাস ধরে ঠিকমতো খেতে পারছি না। এক বেলা রান্না করার অবস্থাও নেই।”
তিনি আরও জানান, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ। দুই ছেলে—একজন দ্বাদশ শ্রেণিতে, অন্যজন কলেজে পড়ে। এই অবস্থায় কাজ না থাকলে ছেলেদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রোগী পরিচারিকারা জানান, এর আগেও তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি। বাধ্য হয়েই তাঁরা আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের একটাই দাবি—অবিলম্বে কাজ ফিরিয়ে দেওয়া হোক, যাতে তাঁরা তাঁদের পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারেন।
বিক্ষোভরত মহিলারা জানান, দাবি মানা না হলে আগামী দিনে তাঁরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন।



