খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Saturday, 24 January 2026 - 01:47 PM
শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ - ০১:৪৭ অপরাহ্ণ

Agartala CPIM Attack : গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ? রাজধানীতে সিপিআইএমের সভায় হামলা নিয়ে উঠছে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার প্রশ্ন

Agartala CPIM Attack
1 minute read

Agartala CPIM Attack : রাজধানীতে ফের রাজনৈতিক অশান্তির ছবি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন। বুধবার সন্ধ্যায় আগরতলার বর্ডার গোল চক্কর এলাকায় সিপিআইএমের একটি সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, একাংশ সমাজবিরোধী দুষ্কৃতী পুলিশের সামনেই সিপিআইএমের কর্মী-সমর্থকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা সভাস্থলে ঢুকে চরম উস্কানিমূলক ও হুমকিসূচক স্লোগান দিতে থাকে। “সিপিআইএমের চামড়া তুলে নেব”, “জিতেন চৌধুরীর চামড়া তুলে নেব”—এই ধরনের ভয়ঙ্কর হুমকি দেওয়া হয় প্রকাশ্যে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সভাস্থলে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, ঘটনাটি ঘটে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অদূরেই। অভিযোগ সত্ত্বেও হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়। এই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন বাম কর্মী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সিপিআইএম নেতা রতন দাস।
তবে গণতন্ত্রে ভিন্ন মত দমাতে এভাবে হিংসা চালানো অগ্রহণযোগ্য। রাজ্যে রাজনৈতিক সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এ কোন ত্রিপুরা? ডঃ মানিক সাহার সুশাসনের রাজ্যে কি এভাবেই মানুষের স্বেচ্ছায় রাজনীতি করার অধিকার লঙ্ঘিত হবে? এর আগেও বাম বিরোধী স্লোগানে “ঘরে ঢুকিয়ে দেব”, “জলে ভাসিয়ে দেব”-এর মতো হুমকি শোনা গেছে। এবার কি সেই হুমকির বাস্তব রূপ দেখা গেল?

রাজ্যের সচেতন নাগরিকদের একাংশের প্রশ্ন, এভাবে আর কতদিন চলবে? প্রশাসন কি আদৌ গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেবে? এখন সেই উত্তরই অপেক্ষাধীন।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ফের একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, রাজ্যে রাজনৈতিক সহনশীলতা ক্রমেই তলানিতে ঠেকছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভিন্নমত ও বিরোধী রাজনীতির জায়গা সংকুচিত হলে তা কেবল একটি দলের নয়, গোটা সমাজের জন্যই অশনিসংকেত। প্রকাশ্যে হুমকি, হামলা এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই ধরনের রাজনৈতিক হিংসা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা। গণতন্ত্র রক্ষায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও দৃঢ় ভূমিকা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

For All Latest Updates

ভিডিও