খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Saturday, 24 January 2026 - 09:17 PM
শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ - ০৯:১৭ অপরাহ্ণ

অধিক আয়ের প্রলোভনে চন্ডীপুর থেকে ৩০ জনের বেশি যুবক–নাবালক পাচারের আশঙ্কা

অধিক আয়ের প্রলোভনে চন্ডীপুর থেকে ৩০ জনের বেশি যুবক–নাবালক পাচারের আশঙ্কা
1 minute read

অধিক আয়ের প্রলোভনে চন্ডীপুর থেকে ৩০ জনের বেশি যুবক–নাবালক পাচারের আশঙ্কা

চন্ডীপুর বিধানসভা এলাকার কালীশাসন ও রাংরুং চা-বাগান অঞ্চল থেকে অধিক আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ জনেরও বেশি যুবক ও নাবালককে ভিন রাজ্যে পাচার করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গোটা ঊনকোটি জেলায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

নিখোঁজদের পরিবারগুলির দাবি, ৯ ডিসেম্বরের পর থেকে ছেলেদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে মাঝেমধ্যে লুকিয়ে ফোনে তারা জানাচ্ছে, মাসিক ১২–১৪ হাজার টাকার আশ্বাস দিয়ে তাদের মেঘালয় বা অরুণাচল প্রদেশের ঘন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পরিবারগুলির অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে “কমলা পাড়া” নামে কাজের কথা বলে তাদের দিয়ে বেগার খাটুনি করানো হচ্ছে। পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে না, মারধরের শিকার হতে হচ্ছে এবং কার্যত বন্দি অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে অনেকেই নাবালক—বয়স মাত্র ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় বুধুরাম উরাং ও ওম প্রকাশ উপাধ্যায়ের মাধ্যমে এই পাচার সংঘটিত হয়েছে। রাংরুং চা-বাগান এলাকা থেকে প্রায় ১৫ জন এবং কালীশাসন এলাকা থেকে অন্তত ১০–১৫ জনকে একসঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে আগরতলায় কাজের কথা বলা হলেও পরে তাদের অরুণাচলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পরিবারগুলির দাবি।

নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা জানান, যাওয়ার সময় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাসিক ১২ হাজার টাকা বেতনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে মাত্র এক মাসের জন্য ২ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং সেটিও পথের মধ্যেই কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে আর কোনও টাকা দেওয়া হয়নি। যোগাযোগের ক্ষেত্রেও কড়া নজরদারি রয়েছে—রাতে খুব অল্প সময়ের জন্য লুকিয়ে ফোনে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে তারা।

এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার নিখোঁজদের পরিবার কৈলাসহর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে সকল যুবক ও নাবালককে উদ্ধার করতে হবে এবং পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “এখন আমাদের পোলাপানরা বাড়ি ফিরতে চাইছে, কিন্তু আমরা অসহায়। ১১–১২ দিন হয়ে গেল, কেউ কিছু জানাচ্ছে না।”

পরিবারগুলির আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত ওম প্রকাশ উপাধ্যায়ের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা কোনও সন্তোষজনক উত্তর পাননি। পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। এখন দেখার, এই গুরুতর মানবপাচারের অভিযোগে প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

অধিক আয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের সন্তানদের ভিন রাজ্যে নিয়ে গিয়ে অমানবিক পরিস্থিতিতে আটকে রাখার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টির সঙ্গে নাবালকদের যুক্ত থাকার কারণে ঘটনাটি আরও গুরুতর আকার নিয়েছে।

এখন অবিলম্বে নিখোঁজ সকলকে নিরাপদে উদ্ধার করা, পাচারচক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের সক্রিয় নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধি একান্ত প্রয়োজন। পরিবারগুলির একটাই দাবি—তাদের সন্তানরা যেন দ্রুত ও নিরাপদে ঘরে ফিরে আসে।

ভিডিও