Tripura Journalist Union : বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান অরাজক পরিস্থিতি ও গণমাধ্যমের উপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাল ত্রিপুরা জার্নালিস্ট ইউনিয়ন। কট্টর মৌলবাদী শক্তির হিংসাত্মক কার্যকলাপে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু পরিবার থেকে শুরু করে সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা আজ চরম সংকটের মুখে—এমনই অভিযোগ তুলে সোমবার আগরতলা প্রেস ক্লাবের সামনে এক প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা কালো ব্যাজ ধারণ করে মৌন প্রতিবাদ জানান। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা জার্নালিস্ট ইউনিয়নের সভাপতি সাজ্জাদ আলি, এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট প্রণব সরকার, সহ-সভাপতি সুরজিৎ পাল, চিত্রা রায়-সহ ইউনিয়নের একাধিক সিনিয়র ও জুনিয়র সাংবাদিক।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রণব সরকার বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক সংবাদপত্র অফিসে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সাংবাদিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে সম্প্রতি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো প্রথম সারির সংবাদপত্র অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শুধু তাই নয়, একাধিক সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে এবং বহু সাংবাদিক আজও কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন, যাঁদের কোনো ন্যায়বিচার হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ঢাকা প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এখনো জেলে বন্দি, যা গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য লজ্জাজনক। এই সমস্ত ঘটনার প্রতিবাদে সর্বভারতীয় সংগঠন ইন্ডিয়ান জার্নালিস্ট ইউনিয়নের আহ্বানে ত্রিপুরা জার্নালিস্ট ইউনিয়ন এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
প্রণব সরকারের দাবি, বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে বন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সংবাদপত্র অফিসগুলো সরকারি খরচে পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে প্রকাশনায় কোনো বাধা না আসে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের উপর যে কোনো ধরনের হামলা বন্ধ করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সাংবাদিকরা বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং অনেকেই বাড়ি থেকে বের হয়ে কাজ করতে পারছেন না। ত্রিপুরা জার্নালিস্ট ইউনিয়ন প্রতিবেশী হিসেবে তাঁদের পাশে রয়েছে—এই বার্তাই এই প্রতিবাদের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে।
শেষে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও কোথাও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে ত্রিপুরা জার্নালিস্ট ইউনিয়ন রাস্তায় নেমে সরব প্রতিবাদ জানাবে। সংগঠনটি কেবল বিবৃতিনির্ভর নয়, বরং বাস্তব আন্দোলনের মাধ্যমেই সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় অটল থাকবে।



