খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Saturday, 24 January 2026 - 09:15 PM
শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ - ০৯:১৫ অপরাহ্ণ

Baramura Road Blockage : ত্রিপুরায় আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন গেরিলাদের জাতীয় সড়ক অবরোধ, চার ঘণ্টা পর প্রত্যাহার

Baramura Road Blockage
1 minute read

Baramura Road Blockage : ত্রিপুরায় আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন গেরিলাদের পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত একাধিক দাবি নিয়ে সোমবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য। আত্মসমর্পণকারী তিনটি প্রাক্তন বৈরী সংগঠন—জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (JAC), জয়েন্ট অ্যাডহক রিটার্নস কমিটি (JARC) এবং ডেমোবিলাইজড রিটার্নস মুভমেন্ট কমিটি (DRMC)—একত্রিত হয়ে ত্রিপুরা গেরিলা রিটার্নস ডিমান্ড কমিটি-র ব্যানারে সোমবার সকাল ৬টা থেকে অসম–আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে বসে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে জানানো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনও পূরণ না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে এই আন্দোলনের পথে নেমেছেন। তাঁদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দাবি পূরণে আরও বিলম্ব হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে তারা পিছপা হবেন না।

বিক্ষোভকারীদের মূল তিনটি দাবি হল—
প্রথমত, আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন গেরিলাদের জন্য ঘোষিত ২৩ কোটি টাকার বোর্ড পুনর্বাসন প্যাকেজ (BRP Scheme) অবিলম্বে পুনরায় চালু করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশন -এর আওতায় পূর্বে অনুমোদিত ১৬,৮০০টি রাবার চারা ও বেড়া নির্মাণ সংক্রান্ত বরাদ্দ বজায় রাখতে হবে, তা কোনওভাবেই ৬,০০০-এ কমানো চলবে না।
তৃতীয়ত, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা প্রাক্তন গেরিলাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মুলতবি মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

সকাল থেকেই জাতীয় সড়কে অবরোধ শুরু হওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বহু যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহন দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় আটকে পড়ে। ফলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে অফিসযাত্রী, রোগীবাহী গাড়ি এবং পণ্য পরিবহণে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি উদ্বেগও দেখা দেয়।

ঘটনার খবর পেয়ে জিরানিয়া মহকুমা শাসক অনিমেষ ধরের নেতৃত্বে এক বিশাল প্রশাসনিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরাও সেখানে উপস্থিত হন। অবরোধকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা শুরু করে প্রশাসন।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, পুনর্বাসন প্যাকেজ ও অন্যান্য আর্থিক দাবির বিষয়ে বেশ কিছু টেকনিক্যাল গ্লিচ এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সম্পূর্ণ অর্থ এখনও দেওয়া সম্ভব হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশনের আওতায় যে অর্থ পাওয়ার কথা ছিল, তার একটি অংশ ইতিমধ্যেই প্রদান করা হয়েছে, বাকি অর্থ ফিনান্স ডিপার্টমেন্টে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললেই অবিলম্বে বাকি টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছে আন্দোলনকারীদের।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, গেস্ট এইজ ও অন্যান্য পেন্ডিং বিষয়গুলি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করা হয়েছে। এই সমস্ত বিষয় মূলত হোম ডিপার্টমেন্ট, ফিনান্স ডিপার্টমেন্ট ও ট্রাইব্যাল ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যুক্ত। ফাইল প্রসেসিং অনেকটাই এগিয়েছে এবং খুব শিগগিরই নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।

দীর্ঘ চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টার টানাপোড়েন ও আলোচনার পর অবশেষে প্রশাসনের আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আমরা অস্ত্র ছেড়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমাজে ফিরে এসেছি। কিন্তু পুনর্বাসনের নামে বারবার শুধু আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে অনেক প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ হয়নি। আজকের আশ্বাস যদি বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে আমরা আবার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন বছরের শুরুতে কেউ রাস্তায় আটকে থাকুক, তা তারা চান না। সকলেই যেন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে শান্তিতে সময় কাটাতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে ফের একবার সামনে এল আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন গেরিলাদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত জটিল প্রশ্ন। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি প্রতিশ্রুতি সময়মতো পূরণ না হলে শান্তির পথে ফিরে আসা এই মানুষগুলির মধ্যে হতাশা বাড়বে, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। প্রশাসনের কাছে এই অবরোধ শুধুমাত্র একটি আন্দোলন নয়, বরং একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

For All Latest Updates

ভিডিও