Jirania Railway News : জিরানিয়া রেল মাদক কাণ্ডের তদন্তে নেমে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে সৌরভ ত্যাগী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্তকারীদের সামনে নিজের বক্তব্যে গোটা ঘটনার নেপথ্য কাহিনি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন সৌরভ ত্যাগী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিরানিয়া রেল স্টেশন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক নেশা সামগ্রী উদ্ধার হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই সৌরভ ত্যাগীর নাম সামনে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, তিনি সরাসরি কোনও মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি একটি কোম্পানির অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটার হিসেবে কাজ করেন এবং কোম্পানি থেকে পাওয়া মাল তিনি দিল্লির একটি সংস্থা, ডি বি এন্টারপ্রাইজ বা ডিপি এন্টারপ্রাইজের কাছে বিক্রি করেছেন।
সৌরভ ত্যাগীর দাবি, দিল্লির ওই সংস্থার মালিক দীপ প্রকাশ গুপ্তা। তিনি বলেন, “আমি কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত মাল প্রপার বিল ও ডকুমেন্টের মাধ্যমে দিল্লির ওই পার্টিকে বিক্রি করেছি। পেমেন্ট আমার অ্যাকাউন্টে এসেছে এবং সমস্ত লেনদেন ই-ইনভয়েস ও ই-ওয়ে বিলের মাধ্যমে করা হয়েছে।” তাঁর আরও দাবি, দিল্লির সংস্থাই ট্রেনের মাধ্যমে ভুলভাবে ওই মাল রাজ্যে পাঠিয়েছে।
তিনি জানান, যে লজিস্টিক সংস্থার মাধ্যমে মাল পাঠানো হয়েছিল, সেই সংস্থার মালিক অরুণ সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইতিমধ্যেই বয়ান দিয়েছেন যে ট্রেনে মাল তোলার দায়িত্ব ছিল দীপ প্রকাশ গুপ্তার। সৌরভ ত্যাগীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি কোনও বেআইনি কাজ করেননি এবং তাঁর কাগজপত্রে কোনও অসঙ্গতি নেই। এমনকি ওই সামগ্রী এনডিপিএস আইনের আওতায়ও পড়ে না বলেই তাঁর দাবি।
তবে পুলিশ এই সমস্ত দাবির সত্যতা যাচাই করছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ঠিক কোথা থেকে এই নেশা সামগ্রী এসেছে, কীভাবে তা পরিবহণ হয়েছে এবং এর সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত। পুলিশ সূত্রের খবর, এই ঘটনার সঙ্গে একটি বড় চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জিরানিয়া রেল মাদক কাণ্ড ঘিরে তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে। মূল অভিযুক্ত সৌরভ ত্যাগী নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও, তাঁর বক্তব্য ও নথিপত্রের সত্যতা যাচাই করাই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। দিল্লির ডি বি এন্টারপ্রাইজ, লজিস্টিক সংস্থা এবং রেলপথে পরিবহণের প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখে পুরো পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করতে চাইছে তদন্তকারী দল।
আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিশ রিমান্ডে থাকাকালীন সৌরভ ত্যাগীর জেরা থেকে এই কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও সংস্থার নাম সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।



