Congress Protest Relly : মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (MGNREGA)-এর নাম পরিবর্তন ও নতুন আইন প্রবর্তনের বিরুদ্ধে রবিবার আগরতলায় তীব্র বিক্ষোভে শামিল হল কংগ্রেস। আগরতলা কংগ্রেস ভবন থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। বিক্ষোভ শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুশপুতুল দাহ করা হয়।
বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে সুদীপ রায় বর্মণ বিজেপি সরকার ও আরএসএস মতাদর্শের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি অভিযোগ করেন, ৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮ সালে নাথুরাম গডসে যেভাবে মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল, ঠিক একইভাবে আজ সংসদে MGNREGA আইন বাতিল করে এবং নতুন আইন এনে “প্রতীকীভাবে আবার মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করা হয়েছে”। তাঁর ভাষায়, “নাথুরাম গডসের পূজারিরাই আজ সংসদে গান্ধীজির আদর্শকে হত্যা করেছে।”
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র আইনটির নাম পরিবর্তনই কংগ্রেসের প্রধান আপত্তি নয়। গান্ধীজি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নতুন আইন এনে গ্রামীণ শ্রমিকদের কাজের অধিকার কেড়ে নেওয়াই আসল উদ্বেগের বিষয়। “হাম কো কাম চাইয়ে”—এই দাবি জানানোর অধিকারই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজেপি সরকারের ১২৫ দিনের কাজের প্রতিশ্রুতিকে ‘চোখে ধুলো’ বলে উল্লেখ করে সুদীপ রায় বর্মণ প্রশ্ন তোলেন, কেন কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ৬০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, আগে যেখানে কেন্দ্র ৯০ শতাংশ ও রাজ্য সরকার ১০ শতাংশ ব্যয় বহন করত, এখন সেখানে রাজ্যগুলিকে ৪০ শতাংশ অর্থ বহন করতে হচ্ছে। ফলে এই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝার চাপ গিয়ে পড়ছে কর্মদিবসের ওপর, যার ফলে কাজের দিন কমে যাচ্ছে।
কংগ্রেসের দাবির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে ২০০ দিনের কাজ ও ন্যূনতম মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবির পরিবর্তে সরকার পুরো আইনই বাতিল করে নতুন আইন নিয়ে এসেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই নতুন আইন গ্রামীণ অর্থনীতিকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেও সতর্ক করেন কংগ্রেস বিধায়ক। তাঁর মতে, এর ফলে গ্রামীণ এলাকার অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পূর্ণভাবে
ভেঙে পড়বে। এই কারণেই দেশজুড়ে রাস্তায় নেমে এই বিলের বিরোধিতা করছে কংগ্রেস।



