Udaipur Congress News : উদয়পুর জেলার কৃষাণ কংগ্রেস ও শ্রমিক কংগ্রেসের যৌথ উদ্যোগে নয় দফা দাবিকে কেন্দ্র করে গোমতী জেলার শাসকের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডেপুটেশন পেশ করা হয়। ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের নির্দেশে সংগঠিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। জেলা শাসক সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতে সহকারী জেলা শাসক ডেপুটেশন গ্রহণ করেন এবং দাবিগুলোর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন।
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের ওবিসি ডিপার্টমেন্টের সহ-সভাপতি প্রল্লাদ ঘোষ, মাইনরিটি ডিপার্টমেন্টের জেলা সভাপতি রোশন মিয়া, ব্লক কংগ্রেস সভাপতি রনজিৎ দেবনাথ, যুব কংগ্রেস সভাপতি প্রসেনজিৎ ব্যানার্জি ও শ্রমিক নেতা রাকেশ হুসেন। এদিন প্রতিনিধিরা জানান, রাজ্যজুড়ে কিষান কংগ্রেস ও অসংগঠিত শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে নয় দফা দাবির আন্দোলন চলছে, যার ধারাবাহিকতায় এই ডেপুটেশন প্রদান করা হয়েছে।
নয় দফা দাবির মধ্যে বিশেষভাবে পাঁচটি বিষয়ে জোর দেন প্রতিনিধিরা। তাদের প্রধান দাবি ছিল রেগা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ এবং বছরে কমপক্ষে ২০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তোলেন তাঁরা। ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর কেন্দ্র সরকারের প্রণীত চারটি “কালো শ্রম কোড” বাতিল করে পূর্বের শ্রম আইন পুনঃপ্রবর্তনের দাবিও উত্থাপিত হয়। একই সঙ্গে ড. এম. এস. স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং কৃষকদের ধান ক্রয়ে প্রশাসনিক গড়িমসি দূর করার কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন প্রতিনিধিরা।
ডেপুটেশন শেষে কংগ্রেস নেতৃত্ব জানায়, কৃষক ও শ্রমিকদের স্বার্থে উত্থাপিত এসব দাবি যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়—এটাই তাদের মূল প্রত্যাশা। তাঁরা বিশ্বাস করেন, প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেবে।
কৃষক ও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের এই ডেপুটেশন এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নয় দফা দাবির মধ্য থেকে জরুরি পাঁচটি বিষয়কে সামনে রেখে যে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশাসনের নজর কাড়বে। রেগার মজুরি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে শ্রম কোড বাতিল, স্বামীনাথন কমিশনের বাস্তবায়ন কিংবা ধান ক্রয়ে গড়িমসি দূরীকরণ—সবই সাধারণ কৃষক-শ্রমিকের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিলে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাস্তব পরিবর্তন দেখা যাবে—এমনই আশা ব্যক্ত করেছেন নেতৃত্বরা।



