Tulsi Pujan Divas : খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিন উদযাপনের মধ্যেই অন্যদিকে হিন্দু সনাতনী সমাজে পালিত হলো তুলসী পূজন দিবস। ত্রিপুরার খয়েরপুরের মরিয়ম নগর সংলগ্ন এলাকায় বিগত কয়েক বছর ধরে নিয়মিতভাবেই এই তুলসী পূজন দিবস পালিত হয়ে আসছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, ২০১৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে ভারতে বড়দিনের দিনটিকেই তুলসী পূজন দিবস হিসেবে পালন করার একটি নতুন প্রথার সূচনা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় খয়েরপুর ও কাশিপুর এলাকার বাসিন্দারা ২০২১ সাল থেকে এই পূজার আয়োজন করে আসছেন। চলতি বছর এই আয়োজন পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করলো।
এই উপলক্ষে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাশিপুর স্বামীজি শাখা থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের উদ্যোগে প্রথম এই তুলসী পূজার সূচনা হয়েছিল। ধীরে ধীরে এই পূজা একটি বৃহৎ সামাজিক রূপ নেয়, যেখানে সমগ্র এলাকার মানুষ একত্রিত হয়ে অংশগ্রহণ করেন। উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম বাপ্পা ঋতু বণিক জানান, শুরুতে সীমিত পরিসরে এই পূজা হলেও এলাকাবাসীর আগ্রহ ও আবেদনের কারণে তা প্রতিবছর নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমানে পূজার সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও এলাকার সাধারণ মানুষই গ্রহণ করছেন।
উদ্যোক্তারা জানান, এই তুলসী পূজার মূল উদ্দেশ্য কেবল ধর্মীয় নয়, বরং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। তুলসী গাছের ধর্মীয় মাহাত্ম্যের পাশাপাশি এর বৈজ্ঞানিক গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। তুলসী পাতা সর্দি-কাশি, দাঁতের রোগসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। অথচ বর্তমান প্রজন্ম, বিশেষ করে শিশুরা তুলসী গাছের উপকারিতা সম্পর্কে তেমনভাবে অবগত নয়।
তাদের মতে, এই পূজার মাধ্যমে প্রকৃতি, মাটি ও জলের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করা সম্ভব। তুলসী গাছকে শুধু একটি সাধারণ গাছ হিসেবে নয়, বরং সনাতনী সংস্কৃতির আত্মা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে এই চেতনা পৌঁছে দিতে এবং ঘরে ঘরে তুলসী গাছ রোপণের গুরুত্ব বোঝাতেই এই তুলসী পূজন দিবস পালনের আয়োজন করা হচ্ছে।
উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে এই পূজা আরও বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে এবং সমাজে পরিবেশ ও সংস্কৃতি সচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
বড়দিনের দিন এই পূজার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সনাতনী সংস্কৃতির মূল ভাবনা, প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং তুলসী গাছের ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এলাকাবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আকার নেবে এবং সমাজে পরিবেশ রক্ষা ও সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে—এমনটাই আশা করছেন উদ্যোক্তারা।



