Tripura Traffic Police : আগামী ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসকে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা মাস হিসেবে পালন করা হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত গোটা দেশজুড়ে ট্র্যাফিক দপ্তরের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যানচালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ট্র্যাফিক আইন মেনে চলার বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগরতলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও মহকুমায় ট্র্যাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক অভিযান শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশেষভাবে সাজানো একটি গাড়ির মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ পরিক্রমা করে সড়ক সুরক্ষা সংক্রান্ত বার্তা প্রচার করা হবে। গাড়িটির গায়ে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মাবলি ও সতর্কতামূলক নির্দেশনা সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই বার্তাগুলি দেখতে ও বুঝতে পারেন।
এ বিষয়ে ট্র্যাফিক দপ্তরের ডিএসপি দিপক দাস জানান, প্রতি বছরই জানুয়ারি মাস জুড়ে সারা ভারতবর্ষে জাতীয় সড়ক সুরক্ষা মাস পালন করা হয়। চলতি বছরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগরতলা শহরের এমসিসি এলাকার মধ্যে সাইকেল ও সচেতনতামূলক গাড়ির মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে, যাতে এই মাসে কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে।
তিনি আরও জানান, অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং হেলমেট সঠিকভাবে ব্যবহার না করার মতো কারণগুলো দায়ী। এসব বিষয় মাথায় রেখেই রাজ্যজুড়ে স্কুল, কলেজ, বাজার, জনসভা ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
ট্র্যাফিক দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই উদ্যোগ শুধুমাত্র জানুয়ারি মাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সারা বছর ধরেই নিয়মিতভাবে সচেতনতা অভিযান চালানো হয়, যাতে প্রত্যেক চালক হেলমেট ব্যবহার করেন, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালান এবং অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকেন।
ট্র্যাফিক দপ্তর সকল নাগরিককে ট্র্যাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে, সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণই পারে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধ করতে।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও মানুষের প্রাণরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। ট্র্যাফিক দপ্তরের এই সচেতনতা অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে দায়িত্বশীলভাবে যানবাহন চালানোর মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। হেলমেট ব্যবহার, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালানো এবং অতিরিক্ত গতি পরিহার করার মতো সহজ নিয়মগুলো মেনে চললেই বহু দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতন আচরণই পারে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং দুর্ঘটনামুক্ত সমাজ নিশ্চিত করতে।



