খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Saturday, 24 January 2026 - 10:07 PM
শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ - ১০:০৭ অপরাহ্ণ

Tripura Tourism News : কোটি টাকার ফেস্টিভ্যাল, শূন্য নিরাপত্তা! প্রশ্নের মুখে ত্রিপুরা পর্যটন দফতর

Tripura Tourism News
1 minute read

Tripura Tourism News : ত্রিপুরার পর্যটন মানচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করার দাবিতে সম্প্রতি রাজ্যে জাঁকজমক করে অনুষ্ঠিত হলো ‘ইউনিটি প্রোমো ফেস্ট’। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেলিব্রিটি, ইনফ্লুয়েন্সার এবং নানা প্রচারমূলক আয়োজনের মাধ্যমে রাজ্যে পর্যটক টানার চেষ্টা চালানো হয়। ত্রিপুরা পর্যটন দফতরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানের দায়িত্ব বণ্টন করা হয় স্বয়ং পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—রাজ্যের পর্যটনকে তুলে ধরা।

কিন্তু উৎসবের আলো নিভতেই সামনে এলো ভয়াবহ বাস্তবতা। নারিকেলকুঞ্জে নৌকা থেকে পড়ে ডুবে যান ধর্মজিৎ চাকমা (১৮), বাড়ি গণ্ডাছড়া। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এনডিআরএফ ও দমকল কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েও তাকে উদ্ধার করতে পারেননি। সোমবার সকাল থেকে আবার তল্লাশি শুরু হয়। প্রশ্ন উঠছে—যে জায়গাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রচার করা হলো, সেখানে ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায় ছিল?

ইউনিটি প্রোমো ফেস্ট চলাকালীন শেষদিনে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনাও প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবু পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটন দফতর কার্যত ব্যর্থ—এই অভিযোগ এখন আর এড়ানো যাচ্ছে না। কোটি টাকা খরচ করে প্রচার, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝাঁ চকচকে ছবি আর ভিডিও—সবই হয়েছে। কিন্তু জলভিত্তিক পর্যটনস্থলে লাইফ জ্যাকেট, প্রশিক্ষিত কর্মী, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা—এসবের ঘাটতি কেন?

পর্যটন মানেই শুধু উৎসব আর প্রচার নয়, নিরাপত্তাও তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি তরুণ প্রাণের এমন মর্মান্তিক পরিণতি রাজ্যের পর্যটন ব্যবস্থার উপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। যদি পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না যায়, তবে কোটি টাকার ফেস্টিভ্যাল কাদের জন্য? ত্রিপুরা পর্যটন দফতরের এই চরম গাফিলতির দায় কে নেবে—এই প্রশ্নই এখন রাজ্যবাসীর মুখে মুখে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে ত্রিপুরা পর্যটন দফতরের অগ্রাধিকার তালিকায় নিরাপত্তা নয়, বরং প্রচারই শীর্ষে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আয়োজন করা উৎসব, সেলিব্রিটি আর ইনফ্লুয়েন্সার দিয়ে রাজ্যের ভাবমূর্তি সাজানো গেলেও পর্যটকদের প্রাণরক্ষা নিশ্চিত করা যায়নি। নারিকেলকুঞ্জের ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি প্রশাসনিক গাফিলতির নগ্ন উদাহরণ। পর্যটন উন্নয়নের নামে যদি দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অব্যবস্থাপনা চলতেই থাকে, তবে ভবিষ্যতে এমন আরও ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখনই আত্মসমালোচনা করে বাস্তব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে, ত্রিপুরার পর্যটন দফতরের সব প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত অর্থহীন প্রমাণিত হবে।

For All Latest Updates

ভিডিও