Tripura Khet Majur Union : চৈত্র সংক্রান্তির প্রাক্কালে গ্রামীণ শ্রমিকদের কাজ ও মজুরি নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হলো ত্রিপুরা ক্ষেতমজুর ইউনিয়ন। শুক্রবার, ২১ মার্চ বিলোনীয়া মহকুমায় সংগঠনের উদ্যোগে গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ‘ডাক বাক্সে চিঠি প্রেরণ’ কর্মসূচি পালন করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সংক্রান্তির আগে অন্তত ১৫ দিনের কাজ এবং তার সঙ্গে নির্ধারিত মজুরি দ্রুত প্রদানের দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সর্বভারতীয় কমিটির সদস্য তথা বিধায়ক দীপংকর সেন। এছাড়াও জেলা সভাপতি বিপুল বৈদ্য, AIKS-এর জেলা সম্পাদক বাবুল দেবনাথ, মহকুমা নেতৃত্ব সুবল রায়, বিজন পাল, মদন চৌধুরী, মৃদুল দত্ত, রিপু সাহা, প্রদীপ মুহুরী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তাঁরা প্রত্যেকে ডাকযোগে মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠান।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বর্তমানে কাজের তীব্র সংকট চলছে। গ্রামাঞ্চল হোক বা শহর—কর্মসংস্থানের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্যের অভিযোগও তোলা হয়। তাদের দাবি, পূর্বে বামফ্রন্ট সরকারের সময় গ্রামীণ শ্রমিকরা বছরে গড়ে ৮০ দিন কাজ পেতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। গত বছর গড়ে মাত্র ৩৯ দিন কাজ পাওয়ার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
এছাড়াও নির্ধারিত মজুরি না পাওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংগঠনের নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিকরা কাজ করলেও সময়মতো কিংবা নির্ধারিত হারে মজুরি পাচ্ছেন না। এমনকি কোথাও কোথাও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বলা হয়, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের বেশি কাজ দেওয়া হচ্ছে, অথচ সাধারণ শ্রমিকরা পর্যাপ্ত কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এই প্রেক্ষাপটে চৈত্র সংক্রান্তির আগে অন্তত ১৫ দিনের কাজ প্রদান এবং সেই মজুরি উৎসবের আগেই শ্রমিকদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের মতে, এতে গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের উৎসব কিছুটা স্বস্তির সঙ্গে কাটবে।
নেতৃত্বের বক্তব্য, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে প্রশাসনকে উদ্যোগী করা। তাঁরা আশাবাদী, সরকার বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে সংক্রান্তির আগেই শ্রমিকদের কাজ ও মজুরি প্রদানের ব্যবস্থা করবে।
ত্রিপুরা ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের এই উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।



