Tripura Human Trafficking : আন্তর্জাতিক নারী পাচারের অভিযোগে শান্তির বাজার থানার পুলিশ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। অভিযুক্তের নাম অমল দেবনাথ, যিনি শান্তির বাজার মহকুমার বাসিন্দা।
মহিলার স্বামী জানান, উদয়পুরের এক গৃহবধূকে বহিঃরাজ্যে পাচারের পরিকল্পনায় অমল দেবনাথ যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। গৃহবধূ পরিবারকে জানিয়েছিলেন তিনি ব্যাংকে যাবেন। কিন্তু পরে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের লোকেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে গৃহবধূর স্বামী বিধান দেবনাথের মোবাইলে একটি রহস্যজনক ফোন আসে। ফোনে জানানো হয়, তার স্ত্রীকে তেলিয়ামুড়ার কিছু যুবক আটকে রেখেছে এবং মুক্তির জন্য অর্থ দাবি করা হয়।
পরিবার তৎক্ষণাৎ ঘটনাটি উদয়পুর মহিলা থানায় জানায়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে যে মুক্তিপণের ফোনটি করেছে শান্তির বাজারের বাসিন্দা অমল দেবনাথ। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে পূর্বেও নারী পাচারের একাধিক অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে শান্তির বাজার থানার পুলিশ অমল দেবনাথকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে উদয়পুর মহিলা থানার পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। পুলিশের হাতে বিধান দেবনাথ ও অমল দেবনাথের কথোপকথনের অডিও রেকর্ডসহ বেশ কিছু প্রমাণ এসেছে, যা পাচারের অভিযোগকে আরও জোরদার করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অমল দেবনাথ গৃহবধূকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে আনে। জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার সময় ওই গৃহবধূর কাছে প্রায় ১৩ ভরি সোনার অলঙ্কার এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা ছিল। পুলিশের আশঙ্কা, গৃহবধূকে অর্থের বিনিময়ে বহিঃরাজ্যে পাঠানো হয়েছে।
এখন মূল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—অমল দেবনাথের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নিখোঁজ গৃহবধূকে খুঁজে পাওয়া যাবে কি না। গৃহবধূর স্বামী বিধান দেবনাথ জানিয়েছেন, তাদের ছোট কন্যাসন্তান মায়ের জন্য অশ্রুসিক্ত হয়ে দিন কাটাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। নারী পাচারের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নারী পাচারের মতো ভয়াবহ অপরাধ আমাদের চারপাশে এখনও সক্রিয়—এটি এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো। পুলিশের তৎপরতায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ গৃহবধূকে উদ্ধার করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই ঘটনায় একদিকে যেমন পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, অন্যদিকে সমাজে নারী সুরক্ষার প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করলে এবং সচেতনতা বাড়লে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ সম্ভব। এখন সকলের দৃষ্টি পুলিশের তদন্তে—তারা কত দ্রুত গৃহবধূকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন, সেটাই সময়ই বলবে।