Tripura Cpim News : আগরতলা শহরে অটোচালকদের সমস্যার সমাধানের দাবিতে আজ এক বিশেষ ডেপুটেশন জমা পড়ল পরিবহন দপ্তরে। ত্রিপুরা অটোরিকশা ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে এই প্রতিনিধিমণ্ডলী পরিবহন দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।
ইউনিয়নের অভিযোগ, সম্প্রতি শহরে যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কিছু নতুন নিয়ম আরোপ করা হয়েছে, যা অটোচালকদের আয়ের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। একদিকে দৈনন্দিন জীবনের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া এই বিধিনিষেধ চালকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
বাম নেতা অমল চক্রবর্তী এদিন সাংবাদিকদের বলেন, “প্রশাসন হঠাৎ করে নিয়ম চাপিয়ে দিলে তার ফল ভোগ করতে হয় শ্রমজীবী অটোচালকদের। এর ফলে তাদের আয় কমছে, অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে, এমনকি মানসিকভাবেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
ইউনিয়নের দাবি, যাত্রী ও চালক—উভয়ের স্বার্থ মাথায় রেখে প্রশাসনকে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করতে হবে। শুধু নির্দেশিকা জারি করলেই হবে না; তার আগে অবশ্যই ইউনিয়নগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসা জরুরি। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, একতরফা সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
অটোচালক সংগঠনের বক্তব্য, পরিবহন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার নাম করে যেভাবে বিধিনিষেধ চাপানো হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষও সমস্যায় পড়ছেন। ভাড়ার বিষয়, স্ট্যান্ড ব্যবস্থাপনা, এবং রুট সংক্রান্ত নির্দেশিকা—সব ক্ষেত্রেই চালকদের মতামত না নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
অমল চক্রবর্তী জানান, “প্রশাসনের দায়িত্ব জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করা। কিন্তু যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাচ্ছে না। ফলে সমস্যা আরও বাড়ছে।”
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তাদের দাবিগুলি দ্রুত মেনে না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হবেন অটো শ্রমিকরা।
আগরতলার পরিবহন ব্যবস্থায় অটোরিকশা অন্যতম ভরসা। শহরের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন এই বাহনে ভর করে। ফলে অটোচালকদের সমস্যা কেবল শ্রমজীবীদের সংকট নয়, সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
পরিবহন দপ্তর এই দাবিগুলিকে কীভাবে বিবেচনা করে, তার উপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের পরিস্থিতি। অটোচালক সমাজ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান চান। অন্যদিকে, যদি আলোচনা ছাড়া একতরফা নির্দেশ জারি করা হয়, তবে তা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।