Tripura Anganwadi Worker : ত্রিপুরায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের পাঁচ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে শনিবার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অল ত্রিপুরা হেল্পার ওয়ার্কার অঙ্গনারী সংগঠনের উদ্যোগে কর্মী ও সহায়িকারা তোর গেট সংলগ্ন রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। পূর্বে প্রশাসনের কাছে মিছিলের জন্য আবেদন না করায় পুলিশ প্রশাসন মিছিলের অনুমতি দেয়নি। তবে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করে মিছিল না করার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নেত্রী কল্পনা কলই এবং মানবাধিকার কর্মী পুরুষোত্তম রায় বর্মন। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের দাবিকে “অত্যন্ত ন্যায্য” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা তৃণমূল স্তরে সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শিশু ও মায়েদের যত্ন, পুষ্টি ও প্রাথমিক শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তায়, তবুও তারা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার।
পুরুষোত্তম রায় বর্মন আরও বলেন, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের এখনও প্রকল্প কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি এবং তাদের চাকরির নিয়মিতকরণও হয়নি। একই সঙ্গে সমকাজে সমবেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত। কোভিড-১৯ মহামারির সময় জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে তারা যে ভূমিকা পালন করেছেন, তার জন্য সমাজ তাদের কাছে কৃতজ্ঞ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গ্র্যাচুয়েটি প্রসঙ্গে তিনি জানান, গুজরাট হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের গ্র্যাচুয়েটি প্রাপ্য বলে ঘোষণা করেছে। ত্রিপুরায় এই রায় কার্যকর না হওয়ায় বিষয়টি আদালতে গড়ায়। সিঙ্গেল বেঞ্চ রায়ে কর্মীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত এলেও রাজ্য সরকার তা মানেনি এবং ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেছে। ইতিমধ্যেই শুনানি শেষ হয়েছে এবং শীঘ্রই রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ডিভিশন বেঞ্চও কর্মীদের পক্ষেই রায় বহাল রাখবে।
এদিন আন্দোলনকারীরা আশা প্রকাশ করেন যে, সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা এসে তাদের দাবি গ্রহণ করবেন এবং বিষয়টি সরকারের কাছে তুলে ধরবেন। তবে সাম্প্রতিক বাজেটে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য কোনো ঘোষণা না থাকায় ক্ষোভও প্রকাশ করা হয়।
শেষে পুরুষোত্তম রায় বর্মন বলেন, আন্দোলন ও প্রতিবাদ ছাড়া অধিকার আদায় সম্ভব নয়। তাই আগামী দিনে আরও ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ত্রিপুরা হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন।



