Transport Department Protest : শহরের ক্রমবর্ধমান যানজট, শ্রমিকদের রোজগারের সংকট এবং অবৈধভাবে পারমিটহীন গাড়ি চলাচলের অভিযোগে সরব হলো ই-রিকশা ও অটো শ্রমিক সংগঠনগুলি। মঙ্গলবার ত্রিপুরা ইলেকট্রনিক রিকশা শ্রমিক সংঘ এবং অটো রিকশা মজদুর মহাসংঘের যৌথ উদ্যোগে আগরতলার আস্তাবল ময়দান সংলগ্ন পরিবহন দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, শহরের রাস্তায় প্রয়োজনের তুলনায় বহু গুণ বেশি অটো, সিএনজি এবং ই-রিকশা পারমিট দেওয়া হচ্ছে। যে রাস্তায় সর্বোচ্চ ৫০টি গাড়ি চলাচল করলেই যথেষ্ট, সেখানে বর্তমানে ৫০০-রও বেশি গাড়ি চলাচল করছে। এর ফলে একদিকে যেমন তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন খেটে খাওয়া চালকেরা।
বিক্ষোভকারীরা জানান, অতিরিক্ত গাড়ির কারণে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা রোজগার করাও এখন কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। তার উপর রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের ফাইন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং নিয়মিত চালান কাটা। এই সমস্ত মিলিয়ে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
এদিন বিক্ষোভস্থলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ত্রিপুরা ইলেকট্রনিক রিকশা শ্রমিক সংঘের পশ্চিম জেলার প্রভারি লিটন পাল বলেন, “আমরা চাই নতুন করে যেন আর কোনো অটো, সিএনজি কিংবা ই-রিকশার পারমিট না দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই বাজারে বহু কোম্পানি বিনা পারমিটে ই-রিকশা বিক্রি করছে, ফলে সাধারণ মানুষও না জেনে গাড়ি নামাচ্ছেন রাস্তায়। এর খেসারত দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের।”
তিনি আরও জানান, আসন্ন এসটি বোর্ডের বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পরিবহন দপ্তরের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। সংগঠনগুলির স্পষ্ট দাবি—অবিলম্বে নতুন পারমিট প্রদান বন্ধ করতে হবে এবং বিদ্যমান যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
শ্রমিক সংগঠনগুলির হুঁশিয়ারি, তাদের দাবি মানা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তারা।
সার্বিকভাবে বলা যায়, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পারমিট প্রদান ও অবৈধ গাড়ি চলাচলের ফলে শহরের যানজট যেমন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে, তেমনি বিপন্ন হয়ে পড়ছে হাজার হাজার খেটে খাওয়া অটো ও ই-রিকশা শ্রমিকের জীবন-জীবিকা। শ্রমিক সংগঠনগুলির এই আন্দোলন কেবল নিজেদের রোজগারের প্রশ্ন নয়, বরং শহরের সুস্থ পরিবহন ব্যবস্থা ও সাধারণ নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যের দাবিও তুলে ধরছে। এখন দেখার বিষয়, শ্রমিকদের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি পরিবহন দপ্তর কতটা সংবেদনশীল হয় এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে কি না। অন্যথায়, এই অসন্তোষ আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের রূপ নিতে পারে।



