খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Saturday, 30 August 2025 - 12:38 PM
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫ - ১২:৩৮ অপরাহ্ণ

TPSC Recruitment Notification : ১৪ নম্বর পেয়ে গেজেটেড অফিসার পদে চাকরি, মেধা বনাম কোটা সংস্কৃতি নিয়ে বিতর্ক ত্রিপুরায়

TPSC Recruitment Notification
1 minute read

TPSC Recruitment Notification : যারা ৮০ পেয়েছেন তারাও ডাক্তার, যারা ১৪-১৫ পেয়েছেন তারাও ডাক্তার। একই মর্যাদার চাকরি, একই দায়িত্ব, একই পরিমানের বেতন। তফাৎ কেবল মাত্র মেধা এবং যোগ্যতার। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, আদৌ কি তারা মানুষের সেবায় নিয়জিত হবার মতো গুণাবলী কিংবা সামরথ্য রাখে ? নাকি কোটা ভিত্তিক নিয়োগের দাবী মানতে গিয়ে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষের সুস্বাস্থ্য এখন সমঝোতার মুখে ?

চিকিৎসা ব্যবস্থা, এমন একটি সংবেদনশীল ব্যবস্থা পনা, যার উপর মানুষ চোখ বুঝে ভরসা করতে চায়। সেখানে চিকিৎসক দের সামান্য টুকু গাফিলতি একজন মানুষের জীবন ও মৃত্যুর মাঝের ফারাক মিটিয়ে দিতে পারে। এই অবস্থায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে যাদের নিয়োজিত করা হবে তাদের কে হতে হবে পারদর্শী। হতে হবে ধৈর্যবাণ, মেধাবী এবং অবশ্যই চিকিৎসা ক্ষেত্র নিয়ে যথেষ্ট পরিমাণে জ্ঞানী। আর জ্ঞানের বিচার করতেই পরীক্ষা নামক একটি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। যার মধ্যে দিয়ে সুযোগ্য ব্যক্তি কে একটি নির্দিষ্ট পদে নিয়োগ করা হয়।

সম্প্রতি ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে একটি নোটিফিকেশান জারি করা হয়েছে। ত্রিপুরার স্বাস্থ্য দপ্তরে ২১৬ জন জেনারেল মেডিক্যাল অফিসার পদে নিযুক্তির এই তালিকা প্রকাশের পর থেকেই চারিদিকে তুমুল সমালোচনার ঝড়।

তালিকা টিতে দেখা যাচ্ছে জেনারেল কোটা ভুক্ত বেশ কিছু পরীক্ষার্থী ৬০% এর অধিক নম্বর পেয়ে এই তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। আবার একই তালিকায় এসটি ক্যাটাগরি তে ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় কেউ পেয়েছেন ১৪ , কেউ বা ১৭ , কেউ বা ২০ । কিন্তু এরা প্রত্যেকেই একই পদে , একই মর্যাদায়, সমান বেতনের চাকরি পেয়েছেন।

উল্লেখ থাকে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি টি প্রকাশ পায়। আর সেই মুলেই এই নিয়োগ। যে ২১৬ জন এর নামের মেধা তালিকা প্রকাশ পেয়েছে তার মধ্যে ৮৩.৯৫ নম্বর পেয়ে শীর্ষ স্থান দখল করেছেন একজন। ২১৬ জনের মধ্যে প্রায় ৭০ জনের নম্বর ৬০% র উপরে থাকলেও তার পরের সব গুলোই ৬০% র কম। তবে সব চাইতে আশ্চর্যয়ের বিষয় – ২০ , ১৫, ১৪ নম্বর পাওয়া পরীক্ষার্থীরাও এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্যে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। যদিও এটা কোটা ভিত্তিক বাছাই তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই নিয়ে রাজ্যের প্রভাতি পত্রিকা গুলোতে জোর দাড় লেখা লেখি হয়েছে। কোটার ভিত্তিতে প্রকাশিত মেধা তালিকা আঁখেরে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন এর সাথে আপোষ মেনে নেওয়া হয় তো ? এই ১৪- ১৫ নম্বর পেয়ে যারা ডাক্তারি করবেন। বা কাউকে ঔষধ লিখে দেবেন ,রোগী দেখবেন অথবা ইঞ্জেকশান দেবেন – তাদের আদৌ মেধা কতটুকু ? আদৌ তাদের শিক্ষা কিংবা জ্ঞান কতটা ?
যদি মেধার পরিচয় পরীক্ষার ফলাফলের মধ্য দিয়ে হয়ে থাকে তাহলে নির্ঘাত ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ১৪ – ১৫ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরা কতটা মেধাবী সেটা বুঝতে অসুবিধার কথা নয়।

এই নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় আলোচনা চলছে। অবশেষে একটা প্রশ্নই উঠছে , আগামী দিনে তারা যেখানেই নিয়োজিত হবেন সেখানকার জন সাধারণ এর জীবনের কোনো প্রকার ঝুঁকি হলে এই দায়িত্ব কি গ্রহন করবেন টিপিএসসি বোর্ড কিংবা স্বাস্থ্য দপ্তর ?
আরও একটি প্রশ্ন, এই কোটা সংস্কারের বিরুদ্ধে এই প্রথম বার নয় এর আগেও বরাবরই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের উদয় হয়েছে। একটা অংশ প্রকৃত অর্থেই মনে করেন , যে কোটা সংস্কারের আড়ালে মেধাবীরা কোথাও হাড়িয়ে যাচ্ছে। যোগ্য ব্যক্তি রা তাদের যোগ্যতা থাকা সত্বেও চাকরি পাচ্ছেন না। অন্যদিকে নুন্যতম নম্বর পেয়েও এক একজন আজ মেডিক্যাল গেজেটেড অফিসার পদে নিয়োজিত। এই বৈষম্য মূলক আচরণ কেও অনেকেই গ্রহন করছেন না। এটা আমাদের বক্তব্য নয়, এধরণের মতবাদ সমাজের বিভিন্ন অংশের , বিভিন্ন স্তরের মানুষের।

For All Latest Updates

ভিডিও