Tinku Roy News : ত্রিপুরার রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে মন্ত্রী টিংকু রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতারণার অভিযোগ। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস বিধায়ক বিরজিত সিনহা এই ইস্যুতে সরব হয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আনেন। তাঁর দাবি, মন্ত্রী টিংকু রায় নির্বাচনী হলফনামায় একাধিক ভুয়া তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং সেই বিষয়েই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিরজিত সিনহার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবী নরসিংহ দাসসহ অন্যান্যরা। তাঁরা জানান, চন্দ্র শেখর সিনহা নামে এক সমাজকর্মী ইতিমধ্যেই কৈলাশহর থানায় এই বিষয়ে এফআইআর দায়ের করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ সেই অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেনি বলে দাবি তাঁদের।
বিরজিত সিনহার অভিযোগ, ২০১৮ এবং ২০২৩—দু’বারই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় টিংকু রায় হলফনামায় ভুল তথ্য প্রদান করেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালে ৫২ চণ্ডীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুয়া দাবি করেন। হলফনামায় উল্লেখ ছিল যে তিনি “বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন, মধ্যভারত, গ্বালিয়র” থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করেছেন। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে, এমন কোনো বোর্ডের অস্তিত্বই ভারতে নেই।
আইনজীবী নরসিংহ দাস এই প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জমা দেওয়া হলফনামা একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত নথি, যেখানে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, সম্পত্তির বিবরণ এবং অপরাধমূলক মামলার তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তা লঙ্ঘিত হয়েছে বলেই তাঁদের অভিযোগ।
এছাড়াও, দ্বিতীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তুলে ধরা হয়। হলফনামায় টিংকু রায় উল্লেখ করেছিলেন যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। অথচ অভিযোগ অনুযায়ী, আগরতলা পশ্চিম থানায় তাঁর নামে একটি মামলা তখনো বিচারাধীন ছিল। মামলাটি ২০২১ সালের এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক গুরুতর ধারায় দায়ের করা হয়েছিল—যার মধ্যে রয়েছে দাঙ্গা, চুরি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অভিযোগ।
এই তথ্য গোপন করা হয়েছে বলেই অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী শিবির। তাঁদের প্রশ্ন, একজন সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে যেখানে আইন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, সেখানে একজন মন্ত্রীর ক্ষেত্রে কেন এই শৈথিল্য? “মন্ত্রী বলেই কি এই দ্বিচারিতা?”—সরাসরি প্রশ্ন তোলেন বিরজিত সিনহা।
চন্দ্র শেখর সিনহার করা এফআইআর প্রসঙ্গে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি কৈলাশহর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু নথি চাওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্টার করা হয়নি বলে দাবি অভিযোগকারীর।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়েও। যদি অভিযোগগুলি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার উপরেই আস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কতদূর এগোয় এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।



