Tik tok Back in India : ভারতে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে চীনা অ্যাপ ও ওয়েবসাইটগুলিকে ঘিরে। সম্প্রতি টিকটক এবং অ্যালিএক্সপ্রেসের ওয়েবসাইট আংশিকভাবে অ্যাক্সেসযোগ্য হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। শুক্রবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দলটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে তিনি “শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে চীনের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করছেন।”
২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন সেনা শহীদ হওয়ার পর দেশজুড়ে চীন-বিরোধী মনোভাব তীব্র হয়ে ওঠে। সেই সময় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে টিকটক, আলিএক্সপ্রেস, শিয়েন-সহ মোট ৫৯টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, এই অ্যাপগুলি দেশের “সার্বভৌমত্ব, প্রতিরক্ষা ও জনশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর।”
কিন্তু সাম্প্রতিক খবরে জানা গেছে, টিকটকের ওয়েবসাইট ভারতে আবার চালু হলেও সম্পূর্ণ ব্যবহারযোগ্য নয়—শুধু হোমপেজ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। মোবাইল অ্যাপ এখনও ডাউনলোড বা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। একইভাবে, অ্যালিএক্সপ্রেসের ওয়েবসাইটও দেখা গেলেও কেনাকাটা করা যাচ্ছে না। সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
এই পরিস্থিতিতেই কংগ্রেসের আক্রমণ শুরু হয়েছে। দলের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদী চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করছেন—চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন। কংগ্রেসের বক্তব্য, “প্রথমে প্রধানমন্ত্রী চীনকে ক্লিনচিট দিয়েছিলেন, পরে জনরোষ সামলাতে টিকটক নিষিদ্ধ করেছিলেন। এখন আবার একই অ্যাপ অ্যাক্সেসযোগ্য করা হচ্ছে। এটা প্রমাণ করে, দেশের তুলনায় মোদীর কাছে চীন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের মতে, কংগ্রেস শুধুই রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে, কারণ ওয়েবসাইট অ্যাক্সেসযোগ্য হলেও পূর্ণ পরিষেবা চালু হয়নি। অপরদিকে সমালোচকদের মতে, শহীদদের রক্তের দামে কোনো বিদেশি কোম্পানিকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।
টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকটক বা অ্যালিএক্সপ্রেসের ওয়েবসাইট আংশিক চালু হওয়া মানেই যে সরকার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, তা নয়। প্রযুক্তিগত কারণে সার্ভার বা ডোমেইন অ্যাক্সেসযোগ্য হতে পারে, কিন্তু কার্যকরভাবে অ্যাপ বা পরিষেবা চালু করার জন্য সরকারি অনুমোদন অপরিহার্য।
ভারত-চীন সম্পর্ক বর্তমানে সূক্ষ্ম অবস্থায় দাঁড়িয়ে। সীমান্তে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। সেই পরিস্থিতিতে চীনা অ্যাপ ও ওয়েবসাইট নিয়ে নতুন বিতর্ক কেন্দ্রীয় সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
আগামী দিনে কেন্দ্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেটাই এখন নজরে থাকবে।