Sulekha Murder Case : নৃশংস হত্যা কাণ্ডের আরও এক নমুনা। চারিদিকে রোজ এমন কতই না ঘটনা ঘটে চলেছে। তবে কিছু কিছু ঘটনা এমন ও ঘটে যা আমাদের ভাবিয়ে তোলে, আদৌ কি আমরা সুস্থ্য সমাজে বসবাস করছি ? আদৌ কি মানবতা কিংবা মনুষ্যত্ব বলে আর কিছু বাকি আছে ? এবারও এমনি প্রশ্ন জাগছে একটি হত্যা কাণ্ডের ঘটনার পর্দা ফাঁস হবার পর।
ত্রিপুরার আগরতলা স্থিত বড়জলা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পশ্চিম ভূবন বন এলাকায় এক বৃদ্ধা মহিলা কে নৃশংস ভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হল। আর এই ঘটনা ঘটিয়েছে তার নিজের পেটের সন্তান। তার নিজের মেয়ে ও জামাই।
ঘটনা ২১শে ডিসেম্বর। বৃদ্ধা কে মেরে রক্তাক্ত করা হয়। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জিবি হাসপাতালে। হাসপাতালে ছুটে যান পশ্চিম থানার পুলিশ ও অভয়নগর ফাঁড়ির পুলিশ। ঘটনার বিবরন দিতে গিয়ে মেয়ে বুল্টি দে ও তার স্বামী বিষ্ণু জানায় যে অপরিচিত কিছু দুষ্কৃতী নাকি আচমকা বাড়িতে ঢুকে বৃদ্ধা কে আক্রমন চালায়। তারা মহিলা কে উদ্ধার করে নিয়ে যায় হাসপাতালে।
দেখা যায় বৃদ্ধার গলার চেইন ছিন্তাই হয়েছে। কিন্তু হাতের বালা , কানের দুল কোনো কিছুই নেয়নি দুষ্কৃতী। আর এখানেই খটকা লাগে পুলিশের। ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। পশ্চিম থানার ওসি রানা চ্যাটার্জি সহ অভয়নগর এর ওসি এবং আইও সহ গোটা পুলিশ ও ফরেনসিক টিম এর সহযোগিতায় ঘটনার মুল রহস্য উদ্ঘাটন হয়।
মৃতা সুলেখা দের সাথেই থাকতেন তার মেয়ে ও জামাতা। আর্থিক অভাব অনটন এর সংসার। তার উপর আবার মেয়ের জামাই মদ্যপ। রাজমিস্ত্রির কাজ করে সে। কখনো ইচ্ছে হলে কাজে যায় , কখনো যায়না। এদিকে সুলেখা দে নাকি আড়াই লক্ষের একটি এফডি করে তার নমিন্যু দিয়েছেন অন্য কার নামে। আর এই নিয়ে মায়ের প্রতি ক্ষোভ বাড়ে মেয়ে ও জামাতার। দুজনের মতলব ঘুরে যায়।
মা কে হত্যা করে তার সব কিছু লুটে নেবার ফন্দী আটে স্বামী স্ত্রী। আর সেই অনুযায়ী ২১ তারিখ মহিলা কে অত্যাচার করে রক্তাক্ত করে তারা। পরে নিজেরাই এক প্রস্থ নাটক মঞ্চস্থ করে সুলেখা কে নিয়ে যায় রাজধানীর রেফারেল হাসপাতাল জিবিপি তে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশের জোর তদন্তে বেরিয়ে আসে সত্য।
টানা পুলিশি জেরার মুখে নিজেদের দোষ স্বীকার করে নেয় দুজন। অতপর তাদের কে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। তাদের বিরুদ্ধে একটি খুনের মামলা নিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের কে কোর্টে তোলা হয়েছে। এসডিপিও দেব প্রসাদ রায় জানিয়েছেন এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনের কঠোর সাজার ব্যবস্থা করা হবে।
মেয়ের হাতেই মায়ের এই পরিণতি, রীতিমত কাঁপিয়ে দিয়ে গেছে গোটা এলাকার মানুষ কে। এই হচ্ছে সভ্য যুগ। যেখানে আজ মা মেয়ের পবিত্র সম্পর্ক ও কলঙ্কিত।



