Sudhir Ranjan Majumder : ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে রাজ্যের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সুধীর রঞ্জন মজুমদারের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হলো। রবিবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত এই স্মরণ সভায় তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা সহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আশীষ কুমার সাহা বলেন, সুধীর রঞ্জন মজুমদার ছিলেন একজন সহজ-সরল, নির্লোভ ও জনদরদি রাজনীতিক। রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে তিনি আজও একজন অত্যন্ত প্রিয় মুখ। শুধু একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই নয়, একজন সমাজসেবক ও আদর্শ প্রশাসক হিসেবেও তিনি স্মরণীয়। দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়াই ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েও সুধীর রঞ্জন মজুমদারের আদর্শ ও কর্মপদ্ধতি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আজ যখন প্রশাসনিক স্তরে দলবাজি, স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে, তখন সুধীরবাবুর নিরপেক্ষ প্রশাসন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। ন্যায়বিচার প্রদান থেকে শুরু করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কখনও পক্ষপাতিত্ব করেননি।
কংগ্রেস সভাপতি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিশেষ করে যুব সমাজ ও কর্মজীবী মানুষের জন্য সুধীর রঞ্জন মজুমদারের প্রশাসন যে ভূমিকা নিয়েছিল, তা আজও রাজ্যের ইতিহাসে স্মরণীয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা প্রদান এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর পদক্ষেপ গোটা দেশের কাছে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।
আশীষ কুমার সাহা বলেন, “সুধীর রঞ্জন মজুমদার আমাদের কাছে অনুপ্রেরণা। তিনি কংগ্রেস কর্মীদের গর্ব এবং রাজ্যবাসীর একজন আপনজন। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা আবারও তাঁর আদর্শকে স্মরণ করছি এবং সেই পথেই এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছি।”
শেষে তিনি প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারবর্গ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
স্মরণ সভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও সুধীর রঞ্জন মজুমদারের রাজনৈতিক জীবন, প্রশাসনিক দক্ষতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন।
সুধীর রঞ্জন মজুমদারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই স্মরণ সভা আবারও প্রমাণ করে, তিনি শুধু একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নন, বরং ত্রিপুরার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নিরপেক্ষতা, সততা ও জনসেবার আদর্শে তিনি যে প্রশাসনিক পথ দেখিয়ে গেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁর কর্মধারা ও মূল্যবোধ রাজ্যবাসী, বিশেষত যুব সমাজের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে। তাই বলা যায়, সুধীর রঞ্জন মজুমদারের আদর্শ ও অবদান সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে আজও ত্রিপুরার জনজীবনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে।



