Sonamura News : সোনামুড়া হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর ওপর শ্লীলতাহানির চেষ্টা ঘিরে এলাকায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। অভিযোগ, বাড়িতে কোনো সদস্য না থাকার সুযোগে পাশের বাড়িতে কাজ করা এক নির্মাণশ্রমিক ওই নাবালিকাকে নির্যাতনের চেষ্টা চালায়।
জানা গেছে অভিযুক্তের নাম জহর মিয়া (৫০)। কয়েকদিন ধরেই তিনি ছাত্রীর বাড়ির পাশেই দেওয়াল নির্মাণের কাজে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, কাজের ফাঁকে বিভিন্ন সময় বাড়ির আশপাশে তাকে অস্বাভাবিকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল।
ঘটনাদিনেও একইভাবে ঘোরাফেরা করতে করতে তিনি বুঝতে পারেন, মেয়েটি বাড়িতে একা। সেই সুযোগেই তিনি ঘরে ঢুকে জোর করে নির্যাতনের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
তবে বলা যায় মেয়েটির সাহসী পদক্ষেপেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আতঙ্কের মধ্যে কোনওভাবে নিজেকে মুক্ত করে সে বাথরুমে গিয়ে আটকে দেয়। তখনই তার চিৎকার শুনে ছুটে আসেন ঠাকুরমা। তাঁকে দেখে তড়িঘড়ি পালিয়ে যায় জহর মিয়া।
পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সোনামুড়া থানার পুলিশ দ্রুত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। যদি ও বা অভিযুক্ত ঘটনার পর থেকেই পলাতক। সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরকম ঘটনা শুধুমাত্র ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
শ্লীলতাহানি শুধু একটি অপরাধ নয়—এটি মানবসম্মান ও মৌলিক অধিকারের জঘন্য লঙ্ঘন। সমাজে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের দায়িত্ব।
অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করাই নয়, প্রতিটি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি—যাতে কেউ নীরবে অত্যাচার সহ্য করতে না হয় এবং প্রত্যেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস পায়।
এই ধরণের অপরাধ এই রাজ্যে প্রতিনিয়ত ঘটে যাচ্ছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়াই আগামী দিনে এড়ানো যেতে পারে এই ধরণের ঘটনা।



