Sabroom BJP Motha : দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমার অন্তর্গত ২৭ নম্বর বুরাতলী–মুহুরিপুর কেন্দ্রে সংঘটিত এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। ঘটনাকে ঘিরে একদিকে যেমন বিজেপি থানার দ্বারস্থ হয়েছে, অন্যদিকে তিপ্রা মথা নেতৃত্ব পুরো বিষয়টিকে ‘মিথ্যা অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল নির্বাচনী প্রচারের সময় তাদের কর্মী-সমর্থকদের উপর আক্রমণ চালানো হয়। অভিযোগ, প্রচারে ব্যবহৃত একটি গাড়িতে ভাঙচুর করা হয় এবং কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজেপি নেতৃত্ব সাব্রুম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
দলীয় এক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জানান, “আমরা ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে হিংসায় বিশ্বাস করি না। আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হোক। কিন্তু আমাদের জনপ্রিয়তা বাড়তে দেখে প্রতিপক্ষ ভয় পেয়ে আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রাক্তন বিধায়ক শংকর রায়ের নিরাপত্তারক্ষীরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন।
বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রশাসনের কাছে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ওই নেতা জানান, “আমরা আইনের উপর আস্থা রেখে থানার দ্বারস্থ হয়েছি। আশা করছি প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেবে।”
অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে তিপ্রা মথা নেতৃত্ব। এক সংবাদ সম্মেলনে দলের এক মুখপাত্র বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি দাবি করেন, ভাঙচুর হওয়া গাড়িটি একজন মুসলিম ব্যক্তির এবং ঘটনাটি ‘সাজানো’ হতে পারে।
তাঁর বক্তব্য, “হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা নিজেদের গাড়ি নিজেরাই ভেঙে আমাদের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে, যাতে ভোটের আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যায়।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের মিছিলে হাজার হাজার মানুষ থাকে। যদি আমরা ভাঙচুর করতাম, তাহলে ওই গাড়ির কোনো চিহ্নই থাকত না।”
এই ঘটনাকে “নোংরা রাজনীতি” বলে আখ্যা দিয়ে তিপ্রা মথা নেতা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা সবাই তিপ্রাসা। ত্রিপুরার মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করছি। তাই কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকে সকলের দৃষ্টি রাখা উচিত।”
এদিকে, প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে, ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি সুয়ো-মোটো মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানার ওসি বিজেপি নেতৃত্বকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও নজর রাখা হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও সাধারণ মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশাই এখন প্রধান হয়ে উঠেছে।



