Punjab Ballot Vote : পাঞ্জাবের সদ্য সমাপ্ত লোকাল বডি নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোরদার হয়েছে এক পুরনো বিতর্ক—ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির এই নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি অনেককেই প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে, তবে কি ব্যালটেই প্রকাশ পেল আসল জনমত?
পাঞ্জাবের জেলা পরিষদের মোট ৩৪৭টি আসনের মধ্যে বিজেপি জয় পেয়েছে মাত্র ৭টিতে। পঞ্চায়েত সমিতির ২৮৩৮টি আসনের মধ্যে দলটির ঝুলিতে এসেছে ১০০-রও কম আসন। অন্যদিকে আম আদমি পার্টি ও ইন্ডিয়া জোটভুক্ত দলগুলি বিপুল সাফল্য পেয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে পাঞ্জাবের মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত দিক হল, পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াই হয়েছে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে। ফল প্রকাশের পরই তাই নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে ইভিএম বনাম ব্যালট বিতর্ক। বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, ইভিএম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, পাঞ্জাবের এই ফলাফল তারই ইঙ্গিত বহন করছে। অনেকের মতে, ব্যালটে ভোট হওয়াতেই প্রকৃত জনসমর্থনের প্রতিফলন ঘটেছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের নিজের গ্রাম সাতোজ থেকে। সেখানে বিজেপি পেয়েছে মাত্র একটি ভোট। বিরোধীদের কটাক্ষ, এই ‘এক’ সংখ্যাটিই নাকি পাঞ্জাবে বিজেপির প্রকৃত সমর্থনের ছবি তুলে ধরছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই ফলাফলকে গুরুত্ব না দিয়ে রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা বলা হয়েছে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যদি দেশজুড়ে বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচন ব্যালট পেপারে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে কি ফলাফল এতটাই ভিন্ন হতে পারে? পাঞ্জাবের লোকাল বডি নির্বাচনের ফল সেই সম্ভাবনাকেই উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
একদিকে যখন শাসকদল এই ফলকে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণের ফল বলে ব্যাখ্যা করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে ইভিএম-বিরোধী আন্দোলনের পক্ষে বড় হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরছে। পাঞ্জাবের এই নির্বাচন যে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল, তা বলাই বাহুল্য।



