খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Tuesday, 27 January 2026 - 07:43 PM
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ - ০৭:৪৩ অপরাহ্ণ

Nari Samiti Deputation : অতিরিক্ত সুদের শোষণ বন্ধে ১১ দফা দাবি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে ডেপুটেশন দিলো গনতান্ত্রিক নারী সমিতি

Nari Samiti Deputation
1 minute read

Nari Samiti Deputation : শুক্রবার ১১ দফা দাবিকে সামনে রেখে জেলা শাসকের উদ্দেশ্যে ডেপুটেশন দিতে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনিক ভবনে পৌঁছায় সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতির প্রতিনিধিদল। তবে জেলা শাসক উপস্থিত না থাকায় তারা অতিরিক্ত জেলা শাসকের হাতে দাবি সনদ এবং ১৩,০০০-এরও বেশি গণস্বাক্ষর জমা দেন।

প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে ভারতবর্ষে ক্ষুদ্রঋণ (মাইক্রোফিনান্স) ব্যবস্থা দরিদ্র মানুষের জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং শোষণের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নারীরা অত্যধিক সুদের ফাঁদে পড়ে ভয়াবহ সংকটে পড়ছেন। এমএফআই এবং নন-ব্যাংকিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানিগুলি ২১ থেকে ২৬ শতাংশ অথবা তারও বেশি সুদে ঋণ দিচ্ছে, যার ফলে বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। ঋণ শোধ করতে না পেরে অনেকেই এক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ আরেক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে ঋণের বোঝা ক্রমশ বাড়ছে।

সংগঠনের দাবি, ব্যাংক থেকে জামানত ছাড়া দরিদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার সরকারি প্রকল্প কার্যকর না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে বেসরকারি সংস্থার চক্রে জড়াচ্ছেন।

বহু পরিবার সুদের চাপে ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে জীবন চালাচ্ছে, সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় বহন করতে পারছে না। কোভিড সময়ে দেওয়া সরকারি প্রতিশ্রুতি ও সহায়তাও বাস্তবে কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ।

সমিতির ১১ দফার মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সুদ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়ন, জবরদস্তি আদায়কে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা, নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের সুদহার নিয়ন্ত্রণে সরকারি ভূমিকা, আত্মহত্যাগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা তহবিল, অবিবাহিত ও মহিলা প্রধান পরিবারকে ৪% সুদে ঋণ, সরকারি ব্যাংক বৃদ্ধি, সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা ঋণের ক্ষেত্রে সিবিল রিপোর্ট বাধ্যতামূলক না করা, জনধন অ্যাকাউন্টধারীদের ঋণ সুবিধা বৃদ্ধি প্রভৃতি।

প্রতিনিধিরা জানান, তারা আশা করেন প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং দাবি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে পাঠাবে।

গণতান্ত্রিক নারী সমিতির দাবি আজ সমাজের বাস্তব চিত্রকে সামনে এনেছে—ক্ষুদ্রঋণের নামে শোষণের চক্রে বাঁধা পড়ে হাজারো নারী ও দরিদ্র পরিবার নীরবে সংগ্রাম করে চলেছেন। সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ঘাটতি এবং বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অতি-সুদের বোঝা তাদের জীবনকে চরম দুরবস্থায় ঠেলে দিয়েছে।

১৩,০০০-এর বেশি গণস্বাক্ষর এই সমস্যার গভীরতা ও জনসমর্থনের প্রমাণ। এখন প্রশাসনের দায়িত্ব—এই দাবিগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। সময় এসেছে দরিদ্র মানুষের জীবন ও স্বপ্নকে বাঁচানোর, শোষণ নয়—অর্থনৈতিক ন্যায় ও সুযোগ নিশ্চিত করার।

For All Latest Updates

ভিডিও