MGNREGA Kailasahar Congres : মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা আইন (এমজিএনরেগা) প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হল কংগ্রেস। গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিতকারী এই প্রকল্পের নাম বদলের মাধ্যমে এর মৌলিক ভাবনা ও অধিকারকে খর্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলে দলটি।
এই ইস্যুতে সোমবার কৈলাসহর জেলা কংগ্রেস ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদীয় দলনেতা ও স্থানীয় বিধায়ক বিরজিত সিনহা, জেলা কংগ্রেস সভাপতি মহম্মদ বদরুজ্জামান, কংগ্রেস নেতা রুদ্রেন্দু ভট্টাচার্য, রুনু মিয়া সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
বক্তারা বলেন, এমজিএনরেগা শুধুমাত্র একটি সরকারি প্রকল্প নয়, এটি গ্রামীণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। কংগ্রেস সরকারের আমলে ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং-এর উদ্যোগে এই যুগান্তকারী আইন সংসদে পাস হয়েছিল, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিপুল প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নাম পরিবর্তন করে প্রকল্পটির সুযোগ সীমিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের।
বিধায়ক বিরজিত সিনহা বলেন, বিজেপি সরকার এমজিএনরেগা পুরোপুরি বাতিল করতে না পেরে ধাপে ধাপে প্রকল্পটিকে দুর্বল করছে। বছরে ১০০ দিনের কাজের পরিবর্তে বহু ক্ষেত্রে শ্রমিকরা ৩০-৪০ দিনের বেশি কাজ পাচ্ছেন না। এর ফলে গ্রামের গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আগে একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে এমজিএনরেগার মাধ্যমে বছরে কোটি কোটি টাকা প্রবাহিত হতো, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে যেত এবং স্থানীয় বাজার ও ছোট ব্যবসা চাঙ্গা করত। এখন সেই আর্থিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ফটিকরায়ের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গও তোলেন বিধায়ক। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসনামলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপর বারবার হামলা হচ্ছে। এই বিষয়ে তিনি রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল থেকে দেশব্যাপী প্রতিটি জেলায় চার ঘণ্টার প্রতীকী উপবাস কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। ঊনকোটি জেলাতেও এই কর্মসূচি পালিত হবে কৈলাসহর জেলা কংগ্রেস ভবন প্রাঙ্গণে দুপুর ১২টা থেকে। কংগ্রেসের স্পষ্ট দাবি—এমজিএনরেগা প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং গ্রামীণ জনগণের সমস্ত প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।



