Mandwi Deprived BPL Family : ত্রিপুরার রাজনীতিতে তিপ্রামথা দীর্ঘদিন ধরে জনজাতি অধিকার, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়নের প্রশ্নে সরব থেকেছে। কিন্তু যখন পূর্ব নোয়াবাদী এডিসি ভিলেজের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী অন্তোদয় রেশন কার্ডধারী দেববর্মা পরিবারের মতো মানুষরা বছরের পর বছর নিরাপদ বাসস্থানের জন্য লড়াই করে যাচ্ছে, তখন প্রশ্ন উঠছে—তাদের প্রতিনিধিত্ব দাবি করা দলটি কোথায়?
একদিকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উন্নয়নের গল্প বলছে, সবকা সাথ সবকা বিকাশের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। অন্যদিকে পূর্ব নোয়াবাদী এডিসি ভিলেজের নন্দ সন্ধু এলাকায় অবস্থিত অন্তোদয় রেশন কার্ডধারী দেববর্মা পরিবার আজও বঞ্চিত একটি নিরাপদ ছাদের অধিকার থেকে।
বিশু চন্দ্র দেববর্মা ও তাঁর ছেলে বীর বাহাদুর দেববর্মা বর্তমানে এক ঝুঁকিপূর্ণ কাঁচা ঘরে বসবাস করছেন, যার মাটির দেওয়াল ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়েছে, আর তার গায়ে পুরনো টিনের বেড়া কোনোরকমে ঠেকানো। বর্ষার দিনে জীবন একপ্রকার প্রতিনিয়ত মৃত্যু ঝুঁকির মধ্যে।
পরিবারটি একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PMAY) জন্য আবেদন করেও আজ পর্যন্ত কোনও ঘর পায়নি। জিও-ট্যাগিং-এর প্রক্রিয়া হয়েছে একাধিকবার, তবুও ফলাফল শূন্য।
বীর বাহাদুর দেববর্মা সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা সরকারি ঘরের জন্য বহুবার আবেদন করেছি। এখনো কিছুই পাইনি। জানি না আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে।”
সরকারি প্রচারমাধ্যমে বলা হয়েছিল, পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর আবাস যোজনার ঘর বরাদ্দের কাজ গতি পাবে। কিন্তু বাস্তবের ছবিটা এখনো অনেক দূরে। রাজ্যের বহু অঞ্চলের মতো এই এলাকাও সেই ‘উন্নয়নের রথ’-এর বাইরে পড়ে রয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে—জনজাতি অধ্যুষিত এই দুর্বল পরিবারের কপালে কবে আসবে সরকারি আবাসনের ছাদ? আর কত রাত ভয় নিয়ে ঘুমোতে হবে তাদের?
এটা শুধু এক পরিবারের নয়, এটি বহু অনাহারী, গৃহহীন মানুষের বাস্তব চিত্র। ত্রিপুরার অনেক প্রত্যন্ত এলাকার মতো এখানেও সরকারি সুবিধা পৌঁছানোর পথ দীর্ঘ, ধীর এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন।
তিপ্রামথার উচিত ছিল এই পরিবারের মতো বহু জনজাতি পরিবারের দুঃখ-দুর্দশাকে সামনে এনে প্রশাসনের ঘুম ভাঙানো। কিন্তু তেমন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। শুধু রাজনৈতিক ভাষণ নয়, বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয়।