Madhupur Panchayat News : প্রাক্তন পুলিশ অফিসার নিত্যরঞ্জন দেবের জমি জবরদখলের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ মধুপুর এলাকায়। অভিযোগ, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ বলপূর্বক তাঁর জমি দখল করে নেয়। তবে, এই অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে দক্ষিণ মধুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত।
নিত্যরঞ্জন দেবের দাবি, তাঁর বাড়ির সংলগ্ন দেড় গণ্ডা জমি যার উপর প্রাচীন ফলগাছসহ দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তি—পঞ্চায়েত প্রধান জিতেন্দ্র দেববর্মা, উপপ্রধান কালীপদ রায় ও তহশিলদার অর্জুন দাস বলপূর্বক দখল করেন। অভিযোগ, তাঁকে কিছু না জানিয়ে বাড়ির বেড়া ভেঙে জায়গার ভেতরের গাছপালা কেটে ফেলা হয় এবং তাঁকে একাধিকবার ভয় দেখানো হয়। বর্তমানে ওই জমির মূল্য প্রায় প্রতি কানিতে দুই কোটি টাকা বলে দাবি করেন নিত্যরঞ্জন বাবু। তিনি মধুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।
অন্যদিকে, দক্ষিণ মধুপুর পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে। তাঁদের বক্তব্য, পঞ্চায়েত ভবনটি টিলার উপরে হওয়ায় স্থানীয় প্রবীণ নাগরিক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছিল। তাই সমতল জায়গায় ভবন স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সরকার অনুমোদিত খাস জমি থেকে দেড় গণ্ডা জায়গা demarcation করে নেওয়া হয়।
পঞ্চায়েত প্রধান জিতেন্দ্র দেববর্মা বলেন,
“উক্ত জমিটি সরকারি খাস জমি, যা আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পঞ্চায়েতের অধীনে আনা হয়েছে। নিত্যরঞ্জন দেবকে সরকারিভাবে একাধিকবার জায়গা খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা মানেননি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন,
“প্রাক্তন পুলিশ কর্মী সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো প্রচার চালিয়ে সরকার ও বিজেপি দলকে বদনাম করার চেষ্টা করছেন।
এখন দেখা যাক, প্রশাসনের তদন্তে এই জমি দখল বিতর্কের আসল সত্য সামনে আসে কিনা।
দক্ষিণ মধুপুরে প্রাক্তন পুলিশ অফিসারের জমি দখল নিয়ে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে এখন উত্তাল এলাকা। একদিকে নিত্যরঞ্জন দেবের দাবি তাঁর বৈধ সম্পত্তি বেআইনিভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে পঞ্চায়েতের দাবি এটি সম্পূর্ণ সরকারি খাস জমি যা আইনি প্রক্রিয়ায় অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে সঠিক তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে আসল সত্য—কার জমি, কার অন্যায়।



