Killa BJP News : ত্রিপুরার ২০ কিল্লা বাগমা এডিসি নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপির প্রচারসামগ্রী ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযোগ, গতকাল গভীর রাতে কিল্লা চালতাবাড়ি এলাকায় বিজেপি প্রার্থী অমর জমাতিয়ার একাধিক নির্বাচনী ফ্লাক্স, ব্যানার এবং দলীয় পতাকা দুষ্কৃতীরা ছিঁড়ে ফেলে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই রাতের অন্ধকারে এই ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তারা এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এবং দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।
এদিকে, একই দিনে সিপিআইএম এর পক্ষ থেকে শহীদ বিমল সিনহার ২৯তম শহীদান দিবস উপলক্ষে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নেতৃবৃন্দরা সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করেন।
বক্তারা জানান, ১৯৯৮ সালের ৩১ মার্চ কমলপুরের আবাঙ্গা নদীর তীরে সন্ত্রাসবাদীদের গুলিতে নিহত হন প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সিপিআই(এম) নেতা বিমল সিনহা এবং তার ভাই বিদ্যুৎ সিনহা। সেই সময় ত্রিপুরাজুড়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং বহু রাজনৈতিক কর্মী তার শিকার হন।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদীরা উপজাতি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে রাজনৈতিকভাবে সিপিআই(এম)-কে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়েছিল। “সাত বোনের ট্রাইবাল রাজ্য” গঠনের লক্ষ্যে এই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পরিচালিত হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।
নেতারা আরও বলেন, সেই কঠিন সময়ে সিপিআই(এম) ত্রিমুখী লড়াই চালায়—আদর্শগতভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা, প্রশাসনিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পাশাপাশি উপজাতি এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের প্রসার ঘটানো। এর ফলে ধীরে ধীরে সন্ত্রাসবাদী প্রভাব কমানো সম্ভব হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, এখনও বিচ্ছিন্নভাবে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিদেশি মদদপুষ্ট শক্তিগুলি আবারও অস্থিরতা তৈরি করতে সক্রিয় হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
এই প্রেক্ষাপটে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের ঐক্য বজায় রেখে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান নেতারা। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের ভূমিকা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের মুখে এমন ভাঙচুরের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।



