Khowai News : ত্রিপুরা রাজ্যে মাদক ও কফ সিরাপ ব্যবসা দিন দিন যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ খোয়াই জেলার বাইজালবাড়ি থানার পুলিশ প্রায় আড়াই হাজার অবৈধ কফ সিরাপসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে। গোপন সূত্রের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানান থানার ওসি যুগল ত্রিপুরা।
পুলিশ জানিয়েছে , আগরতলা থেকে প্রচুর পরিমাণ কফ সিরাপ পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হচ্ছিল। ওসি যুগল ত্রিপুরার নেতৃত্বে পুলিশ নাকা পয়েন্টে ওত পেতে ছিল। সঠিক সময়ে অভিযান চালিয়ে টিআর-০১-AX-১৫৪৩ নম্বরের একটি বোলেরো গাড়ি আটক করে প্রায় আড়াই হাজার বোতল অবৈধ কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
তবে বন্ধ নেই রাজ্যে নেশা সামগ্রীর আমদানী। কিছুদিন আগেও ভারতীয় রেলে করে নেশা জাতীয় কফ সিরাপ পৌঁছায় ত্রিপুরায় । এই ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের এর বাড়িতে হানা দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত মূল কাণ্ডারি দের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
যদিও পুলিশের এই তৎপরতা প্রশংসনীয়, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে — এত বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য রাজ্যের ভেতর প্রবেশ করছে কীভাবে? সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি থাকার কথা, অথচ প্রতিনিয়ত এমন কফ সিরাপ ও নেশাজাত দ্রব্য উদ্ধার হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক পাচারচক্রের সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে, যার ফলে পাচার কার্যত অব্যাহত রয়েছে।
রাজ্যে মাদক বিরোধী অভিযান চললেও বাস্তবে পাচারের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। শুধুমাত্র নিচুস্তরের অভিযানে নয়, এই ব্যবসার মূল শিকড়ে পৌঁছে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার বারবার কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন খুব কমই দেখা যাচ্ছে।
ত্রিপুরার তরুণ সমাজের একাংশ কফ সিরাপের মতো নেশাজাত দ্রব্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই প্রবণতা শুধু সামাজিক নয়, জনস্বাস্থ্য সংকটেরও জন্ম দিচ্ছে। কিন্তু সরকারি উদ্যোগগুলি বেশিরভাগই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে।
পুলিশকে একা নয় — সরকারকেও দৃঢ় নীতি ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। পাচারচক্রের পেছনে কারা, সেই বড় প্রশাসনের উত্তর এখনো অজানা। যদি প্রশাসন সত্যিই স্বচ্ছ ও ন্যায্য তদন্ত চালায়, তাহলে ত্রিপুরাকে মাদকমুক্ত রাজ্যে পরিণত করা সম্ভব।



