Kamalasagar Scooty Accident : ত্রিপুরার কমলাসাগরে এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন নবদম্পতি দিবাকর ঘোষ ও প্রিয়াঙ্কা ঘোষ। রবিবার দুপুরে কসবেশ্বরী মায়ের মন্দিরে পূজো দিয়ে ফেরার পথে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা।
দিবাকর ঘোষ, যিনি বিলোনিয়ার গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মী ছিলেন, সেদিন পরিবারের সঙ্গে পূজো দিতে যান। বাবা-মা ও মাসির সঙ্গে পূজো শেষে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে বিশালগড় নৌকাঘাটে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অন্য আত্মীয়রা আলাদা গাড়িতে বাড়ির পথে রওনা দেন। কিন্তু গোকুলনগর টিএসআর ক্যাম্পের কাছে পৌঁছতেই ঘটে বিপত্তি।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎই রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখা যায় রক্তাক্ত অবস্থায় দম্পতিকে। সঙ্গে সঙ্গে টিএসআর জওয়ানরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে প্রিয়াঙ্কা ঘোষ এবং হাঁপানিয়া হাসপাতালে দিবাকর ঘোষকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
এই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল মাত্র কয়েক মাস আগে। দিবাকর ছিলেন তাঁর বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র কন্যা। হঠাৎ এই মৃত্যু সংবাদে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরাও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এই করুণ ঘটনার সামনে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। সোমবার পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এহেন অকাল প্রয়াণ শুধু দুই পরিবারকেই নয়, সমগ্র এলাকাকেই শোকে মুহ্যমান করে তুলেছে। নতুন জীবন শুরুর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এমন দুর্ঘটনা যে কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, কমলাসাগরের এই ঘটনা আবারও তার এক নির্মম দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
কমলাসাগরের দুর্ঘটনাটি একদিকে যেমন দুটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দিল, অন্যদিকে সমগ্র এলাকাকেই শোকে আচ্ছন্ন করে তুলেছে। মাত্র কয়েক মাসের সংসার জীবনের ইতি টেনে দিল এই সড়ক দুর্ঘটনা। দিবাকর ও প্রিয়াঙ্কা—যাঁরা দু’জনই ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান—তাঁদের অকাল প্রয়াণে বাবা-মা ও আত্মীয়রা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন।
এই করুণ ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব। নিয়ম মানা ও সতর্ক থাকা না হলে এক মুহূর্তেই জীবন বদলে যেতে পারে। দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে, তবে শেষ পর্যন্ত এই শোকের ক্ষত পূরণ করা কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়।
কমলাসাগরের এই সড়ক দুর্ঘটনা এক মর্মস্পর্শী শিক্ষা দিয়ে গেল—নিয়ম মেনে, সতর্কভাবে চলাই জীবনের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।