Kailasahar Ramkrishna College : ত্রিপুরার বিজেপি জোট সরকার দিকে দিকে ফলাও করে পোস্টারে ছাপিয়ে বেড়াচ্ছে যে এই সরকার রাজ্যের সর্ব স্তরে উন্নয়নের জোয়ার এনে দিতে কাজ করে চলেছে। কিন্তু উন্নয়নের ভিত্তি বা মেরুদণ্ড শিক্ষা ক্ষেত্রেই যখন দেখা যাচ্ছে চরম অব্যবস্থাপনা তখন এই ফলাও করে বলা উন্নয়নের বুলি আদৌ কতটা সত্য তাই প্রশ্ন জাগে।
এতদিন যাবত রাজ্যের শিক্ষা স্বাস্থ্য সবকটি দপ্তর হাতের মুঠোয় নিয়ে বসেছিলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী। অবশেষে উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের জন্যে নিয়োগ করা হল মন্ত্রী কিশোর বর্মণ কে। স্বাভাবিক ভাবেই আশা জাগে যে এবার হয়তো উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে আমল পরিবর্তন আনতে পারেন মন্ত্রী। কিন্তু সেগুরে বালি। উল্টে উচ্চ শিক্ষা দপ্তর এর অধীন মহা বিদ্যালয় গুলিতে দেখা দিচ্ছে চরম অব্যবস্থাপনা।
মন্ত্রী কিশোর বর্মণ মন্ত্রীত্ব লাভের পর বলেছিলেন উনি রাজ্যের সমস্ত মহা বিদ্যালয় গুলি পরিদশন করে দেখবেন। বিশ্ব বিদ্যালয় গুলি পরিদর্শন করে দেখবেন। কিন্তু সেই দেখা আদৌ হল কিনা বা উচ্চ শিক্ষা দপ্তর রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তৎপর হল কিনা সেই নিয়ে নেই তথ্য।
প্রসঙ্গত, কৈলাশহর রামকৃষ্ণ মহা বিদ্যালয় রাজ্যের একটি বনেদী মহা বিদ্যালয়। যাতে হাজারের ও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। অভিযোগ দুর্গা পুজোর ছুটি শেষ হবার পর থেকে আজ এতো দিন চলে গেলেও অধ্যাপক ও অধ্যাপিকা দের অনুপস্থিতির ফলে ক্লাস এক প্রকার লাটে উঠেছে। মাত্র একজন অধ্যাপক দিয়ে চলছে পুরো কলেজ।
বাকিরা নাকি ত্রিপুরা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ডাকে গেছেন কলেজের পরীক্ষার্থীদের উত্তর পত্র কাটতে। আর যে কজন গেস্ট লেকচারার ছিলেন তাদের কে পুনরায় নিয়োগ না করায় তাদের মেয়াদ শেষ হতেই তারাও চলে গেছেন। এই অবস্থায় একেবারে অভিভাবক হীন হয়ে পড়েছে কলেজ টি।
নতুন সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী দের অভিযোগ আজ অব্দি তাদের ভালো করে ক্লাস হয়নি। রোজ দূর দুরান্ত থেকে ছাত্রেরা কলেজে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে। তাদের ঝুলিতে পড়ছে না শিক্ষার কোনো জ্ঞান। যার ফলে এক প্রকার হতাশায় ভুগছে তারা। অন্যদিকে এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে দিকে দিকে।
শুধু মাত্র রামকৃষ্ণ মহা বিদ্যালয় নয়, বছরের এই বিশেষ কিছু সময়ে পরীক্ষার খাতা দেখার নামে প্রতিটি কলেজ থেকে ত্রিপুরা বিশ্ব বিদ্যালয়ের নির্দেশে অধ্যালক অধ্যাপিকা দের নিয়ে যাওয়া হয়। এতে করে প্রত্যেক কলেজের স্বাভাবিক পঠন পাঠন ব্যাহত হয়ে পরে। এর খেসারৎ দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এই চরম অব্যবস্থাপনার সমাধান দেবে কি উচ্চ শিক্ষা দপ্তর ? সেদিকেই নজর।



