Jitendra Chowdhury CPIM : ত্রিপুরা ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়া অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (এডিসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে উন্নয়নের ধারা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিলেন বামফ্রন্ট নেতা জীতেন্দ্র চৌধুরী। সোমবার মুঙ্গিয়াকামি কেন্দ্রে প্রচারে গিয়ে তিনি বলেন, এডিসির মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে আবারও জনজাতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে বামপন্থীরা।
জীতেন্দ্র চৌধুরী জানান, বর্তমানে মুঙ্গিয়াকামি কেন্দ্র রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে এই কেন্দ্রটি ‘হটবেড’-এ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রশংসা করে বলেন, নতুন প্রজন্মের শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ প্রার্থীদের রাজনীতিতে আনা একটি ইতিবাচক দিক, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য জরুরি।
তিনি বলেন, এডিসি শুধুমাত্র রাস্তাঘাট, পানীয় জল বা বিদ্যুতের মতো অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল জনজাতি মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি, জমি ও জীবিকার অধিকার রক্ষা করা। অতীতে রাজতন্ত্র ও পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস সরকারের নীতির কারণে জনজাতি সমাজ বহু অধিকার হারিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যই এডিসি গঠিত হয়েছিল।
বামফ্রন্ট সরকারের দীর্ঘ শাসনকালে নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও জনজাতি এলাকায় উন্নয়নের কাজ এগিয়েছিল বলে দাবি করেন চৌধুরী। তবে ২০১৮ সালের পর সেই উন্নয়নের ধারা থমকে গেছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। “এডিসিতে উন্নয়নের সুইচ অফ হয়ে গেছে, আমরা আবার সেই সুইচ অন করব,”—এই বার্তাই তিনি ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন।
প্রচারের বাকি দিনগুলোতে বামফ্রন্টের কর্মীরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দলীয় নীতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরছেন বলেও জানান তিনি। বিভিন্ন বাধা, ভয়ভীতি ও প্রলোভনের অভিযোগ তুলেও তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তারা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।
এদিকে, মানিকবাজার এলাকায় সাম্প্রতিক এক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, এক মন্ত্রীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান। তার অভিযোগ, ওই মন্ত্রী নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সবশেষে, এডিসির প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বামফ্রন্টকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান জীতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন, জনজাতি মানুষের সার্বিক উন্নয়ন ও অধিকার সুরক্ষার জন্যই তাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।



