Jitendra Choudhury files petition
মন্ত্রী রতন এর বিরুদ্ধে পিটিশন দাখিল, বহিস্কার হতে পারেন বিধানসভা থেকে
বিধানসভায় ৭ম বাজেট পেশ হবার পর থেকেই একের পর এক চমক। তবে বাজেট নিয়ে নয়। ব্যক্তিগত আক্রমণ আর কে কার চাইতে বেশি জোর খাটিয়ে কাকে কে দমিয়ে রাখতে পারেন সেই কম্পিটিশান চলছে এই মুহূর্তে ত্রিপুরা বিধানসভায়। ২৪শে মার্চ বিধানসভার দ্বিতীয় দিনে অধিবেশন চলাকালীন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী উনার বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে কতিপয় এক মন্ত্রীর দুর্নীতির কাহিনী আকারে ইঙ্গিতে প্রকাশ করতেই ক্ষেপে লাল হয়ে উঠেন মন্ত্রী বাবুরা। একজন এর অবস্থা হয় কিছুটা “ঠাকুর ঘরে কে , আমি তো কলা খাইনি “ এরকম। তো অন্যজন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে উকালতি করছেন এমনটা বোঝাতে গিয়ে নিজেই একেবারে লেজে গোবরে হয়ে গেলেন।
অন্ত্যোদয় রেশন কার্ড হোল্ডার পরিবারের একজন সদস্য কিভাবে দুই বছরে রাজ্যের সব চাইতে বড় কর দাতা হয়ে যান সেই প্রশ্ন তুলতেই একদিকে ক্ষেপে যান মন্ত্রী সুধাংশু দাস। যেন কথাটা উনাকেই বলা হয়েছে , এমনটাই বোঝালেন উনি। অন্যদিকে উনাকে সাপোর্ট দিতে গিয়ে মন্ত্রী রতন লাল নাথ বেফাঁস বলে ফেললেন কিছু ভুল্ভাল কথা। বিরোধী দলনেতা কে ভাষায় আক্রমণ করতে গিয়ে উনার “জাত” তুলেই ধমক দিলেন মন্ত্রী বাবু। আর তাতেই বাঁধে বিপত্তি। এই নিয়ে বিগত ২৪ ঘণ্টায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা রাজ্য জুড়ে। তীব্র ধিক্কার আর সমালোচনার মুখে পড়েছেন মাননীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী। যদিও কিছু কিছু গোদি ট্যাগ প্রাপ্ত মিডিয়া উনাকে চাঙ্গা রাখতে ড্যামেজ কন্ট্রোল করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু তাতে যে আর কাজ হচ্ছে না। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী একজন জনজাতি সম্প্রদায় ভুক্ত হবার সুবাদে মন্ত্রী রতন লাল নাথের এই উক্তি রাজ্যের ৩১ শতাংশ তিপ্রাসাদের কে অপমান করেছে বলেও দাবী করা হচ্ছে। যদিও শাসক শরিক হবার সুবাদে এই নিয়ে তিপ্রা মথা কিংবা তিপ্রাসাদের কাউকেই টু শব্দটি ও করতে শোনা যায়নি। এদিকে একই ঘটনা যদি ভুল করেও বিরোধী রা কেউ করতেন তবে এতক্ষণে হয়তো পথ অবরোধ , বিক্ষোভ , মিছিল – অনেক কিছুই মঞ্চস্থ করা হয়ে যেত।
যাই হোক, এই নিয়ে ২৫ তারিখেও বিধানসভা উত্তাল হলে অবশেষে ওয়াক আউট করেন বিরোধী বামেরা। অতঃপর মন্ত্রী রতন লাল নাথের বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ মোশন এ পিটিশান দাখিল করেন বিরোধী দলনেতা। যা মূলত সংসদীয় নিয়মাদি ভঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতে যে কোনো সদস্য কোনো মন্ত্রী বা সাংসদের বিরুদ্ধে দাখিল করতে পারেন। যদি এই অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হয় তবে নিশ্চিত ভাবে দোষী কে সাজা পেটে হবে এবং সেক্ষেত্রে মন্ত্রী রতন লাল নাথ কে সাময়িক কিংবা চিরকালের মতো বহিস্কার ও করে দেওয়া যেতে পারে। যদিও গেরুয়া শাসনে তা হবে বলে আশা রাখেন না শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মহল।