Gopal Roy : ত্রিপুরা বিধানসভায় পেশ হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটকে ‘গতানুগতিক’ ও ‘জনবিরোধী’ বলে কড়া সমালোচনা করলেন বনমালীপুরের বিধায়ক গোপালচন্দ্র রায়। সোমবার (১৬ মার্চ) বাজেট পেশের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, এই বাজেটে নতুনত্বের অভাব রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য কোনো বাস্তবসম্মত দিশা দেখানো হয়নি।
বিধায়কের অভিযোগ, বেকার যুবক, শ্রমিক ও কৃষকদের জন্য বাজেটে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, “এই বাজেট সম্পূর্ণ ক্ল্যারিক্যাল—একঘেয়ে হিসাবের বাইরে কিছু নয়। যুবকদের কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন বা নতুন বিনিয়োগ আনার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা নেই।”
৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির ঘোষণাকেও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ডিএ বাস্তবায়নে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় হবে। সেখানে বাজেটে ইতিমধ্যেই ২৪০ কোটির ঘাটতি দেখানো হয়েছে। ফলে সামগ্রিক ঘাটতি আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া, ডিএ বৃদ্ধির প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন গোপালচন্দ্র রায়। যদিও তিনি এটিকে সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করেন, তবুও স্বচ্ছতার অভাবের ইঙ্গিত দেন।
বিধায়ক আরও অভিযোগ করেন, বাজেটে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উপর নির্ভরতা বেশি এবং সেগুলিও মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজ্যপালের ভাষণে উন্নয়নের যে দাবি করা হয়েছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও বেকারত্বের সমস্যাও এই বাজেটে আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। কেন্দ্রের প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান বা আর্থিক সুবিধার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন বিধায়ক।
সব মিলিয়ে, এই বাজেটকে তিনি “জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ” এবং “সম্পূর্ণ জনবিরোধী” বলে আখ্যা দেন। তাঁর কথায়, “এই বাজেটে উন্নয়নের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি।”


