GMP Janasiksha Divas : ত্রিপুরা রাজ্যের শিক্ষা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে পালিত হলো জনশিক্ষা দিবস। শনিবার ৮১ বছরে পদার্পণ করলো এই ঐতিহাসিক দিন। প্রতি বছরের মতো এবছরও যথাযোগ্য মর্যাদায় গোটা রাজ্যজুড়ে দিনটি পালন করে উপজাতি গণমুক্তি পরিষদ।
১৯৪৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর, রাজন্য শাসনের অন্ধকার সময়কালে রাজ্যের গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করা এবং বিশেষত উপজাতি সমাজের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে দশরথ দেববর্মা, হেমন্ত দেববর্মা, সুধন্য দেববর্মা সহ ১১ জন উদ্যমী যুবক গড়ে তুলেছিলেন জনশিক্ষা সমিতি। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজও ২৭ ডিসেম্বর জনশিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
এবছর কেন্দ্রীয় মূল অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় সিপিআইএম রাজ্য কার্যালয়ে। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় গণমুক্তি পরিষদের সভাপতি নরেশ জমাতিয়ার দ্বারা সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। সিপিআইএম-এর পতাকা উত্তোলন করেন দলের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। এরপর উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জনশিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম স্থপতিদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী জনশিক্ষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আজ ১১ই পৌষ, ইংরেজি ২৭ ডিসেম্বর—ত্রিপুরা রাজ্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। রাজন্য শাসনের দীর্ঘ অন্ধকার থেকে মুক্তির লক্ষ্যে মাত্র ১১ জন যুবক এই আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, রাজ্যের পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে একসময় একটি স্কুলও ছিল না, সেখানেই শত শত শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে ওঠে এই আন্দোলনের হাত ধরে। জনশিক্ষা আন্দোলন শুধুমাত্র শিক্ষা বিস্তারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি সমাজে যুক্তিবাদ, আধুনিক চিন্তা ও প্রগতিশীল চেতনার উন্মেষ ঘটায়।
বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলনের প্রাসঙ্গিকতা আরও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষাবিরোধী, সাম্প্রদায়িক ও সংস্কৃতিবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে জনশিক্ষা আন্দোলন আজও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধের প্রতীক বলে উল্লেখ করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী।
শেষে তিনি জনশিক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “জনশিক্ষা আন্দোলন দীর্ঘজীবী হোক।”দিনভর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজ্যজুড়ে শ্রদ্ধা ও স্মরণে পালিত হয় জনশিক্ষা দিবস।



