GB Hospital Incident : আগরতলা জিবি হাসপাতালে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মোহনপুরের কলকলিয়া এলাকার বাসিন্দা নিপু দাস তাঁর গর্ভবতী স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনেন। তবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগেই হাসপাতালের বাথরুমে মহিলার প্রসব বেদনা শুরু হয় এবং তিনি এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।
প্রসূতির হাতে কেবল প্লাসেন্টা দেখা গেলেও সন্তান কোথায়—সে প্রশ্নে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। এ সময় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসপাতালের বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষীরা লক্ষ্য করেন, নিপু দাস একটি বাজারের ব্যাগ হাতে দ্রুত বাইরে বেরোচ্ছেন। ব্যাগের ভেতরে নবজাতকের দেহ দেখতে পেয়ে তাঁকে আটকে রাখা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতকের দেহ উদ্ধার করে। শিশুটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। গোটা হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রোগী ও পরিজনেরা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তোলেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নিপু দাসের দাবি, গতরাতে দাঁতের ব্যথার ওষুধ খাওয়ার পর থেকেই তাঁর স্ত্রীর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। সকালে হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসকরা কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বললেও তার আগেই বাথরুমে সন্তান জন্ম নেয়। নিপুর কথায়, স্ত্রী তাঁকেই শিশুটিকে ব্যাগে করে বাইরে নিয়ে যেতে বলেন।
ঘটনার পর পুলিশ নবজাতকের মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। প্রসূতির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও আলাদা তদন্ত চালাচ্ছে।
এমন ঘটনার জেরে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে কেন শিশুটিকে ব্যাগে করে লুকিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করা হলো—তা নিয়েও জোরালো সন্দেহ তৈরি হয়েছে।