Gazipur Journalist Death : গাজীপুরে প্রকাশ্যে এক সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ–এর গাজীপুর প্রতিনিধি ছিলেন। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, তুহিনকে পাঁচ–ছয়জন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। জীবন বাঁচাতে তিনি দৌড়ে চান্দনা চৌরাস্তা ঈদগাঁ মার্কেটের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা দোকানে ঢুকেই এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম জানান, ‘তুহিন ভাই হঠাৎ দৌড়ে আমার দোকানে ঢুকে পড়েন। এরপর তিনজন ভেতরে ঢুকে তাঁকে কোপাতে থাকে, বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আরও দুজন রামদা নিয়ে পাহারা দিচ্ছিল। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও হত্যার হুমকি দেয়।’ তাঁর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকলেও কেউ সাহস করে এগিয়ে আসেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র তাদের হাতে এসেছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মো. রবিউল হাসান বলেন, ‘একজন সাংবাদিককে এভাবে হত্যা অত্যন্ত দুঃখজনক। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’ নিহতের লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার মাত্র কিছুক্ষণ আগে তুহিন তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে স্থানীয় রাস্তার অব্যবস্থাপনা ও কর্তৃপক্ষের অবহেলা নিয়ে পোস্ট করেছিলেন।
সাংবাদিকরা সমাজের চোখ ও কান—তারা সত্য উন্মোচন করে, অনিয়ম প্রকাশ করে এবং জনস্বার্থ রক্ষায় কাজ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে, তাদের নিরাপত্তা অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কাজ করার সময় সাংবাদিকদের হুমকি, হামলা ও প্রাণনাশের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হয় একা ও অসুরক্ষিতভাবে।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ—রাষ্ট্র, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়। দ্রুত বিচার, অপরাধীদের শাস্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকের নিরাপত্তা মানে কেবল একজন মানুষের সুরক্ষা নয়—এটি গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষাও। তাই সত্য বলার মানুষদের রক্ষা করাই হবে একটি সভ্য সমাজের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।