Durga Puja 2025 : সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ মানেই পুজোর আবহ। সারাবছরের অপেক্ষার অবসান, চার দিনের উৎসবকে ঘিরে বাঙালির প্রাণচাঞ্চল্য। এ বছর মহালয়া পড়ছে ২১ সেপ্টেম্বর। সেদিন থেকেই শুরু হবে দেবীপক্ষ। আর মূল চারদিনের দুর্গোৎসব ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত। তবে প্রতি বছর যেমন একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে—দেবীর আগমন ও গমন কিসে? আর সেটাই কি আমাদের জন্য শুভ না অশুভ ইঙ্গিত বয়ে আনে?
শাস্ত্র অনুযায়ী, এ বছর দেবীর আগমন ঘটছে গজে বা হাতিতে। পুরাণমতে, গজে আগমন মানে শান্তি, সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্যের প্রতীক। পৃথিবী হয়ে ওঠে শস্যশ্যামলা। অন্যদিকে, গমন হবে দোলায় বলা পালকিতে। প্রচলিত বিশ্বাস বলছে, এতে মড়ক বা মহামারীর সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি এসবের সঙ্গে বাস্তবের কোনো যোগ আছে?
বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও পুরাণ বিশারদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী একেবারেই অন্যরকম মত পোষণ করেন। তাঁর মতে, দেবীর আগমন কিংবা গমন—কোনোটিই অশুভ হতে পারে না। তিনি বলেন, “মা আসছেন বাপের বাড়ি, ক’দিন থাকবেন আর ফিরে যাবেন—এই আসা-যাওয়া কখনওই অমঙ্গলের প্রতীক হতে পারে না।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা দেন যে, অনেকেই বার ও বাহন মিলিয়ে আগমন-গমনের শুভাশুভ নির্ধারণ করেন, যা তাঁর মতে অর্থহীন। যেমন সোমবারে শিবপুজো শুভ বলা হলেও, সেই ব্যাখ্যা দুর্গার আগমন-গমনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ভাদুড়ী ‘চৈতন্যচরিতামৃত’-এর উদাহরণ টেনে বলেন, কৃষ্ণদাস কবিরাজ লিখেছেন—“তারে জানে সুকৃতি যে দোলা-ঘোড়ায় চড়ে।” এখানে ‘দোলা’ মানে নাগরদোলা নয়, বরং পালকি। অর্থাৎ পালকিতে চড়া আসলে শুভই। তাহলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দোলায় গমনকে অমঙ্গল ধরা হলো কেন? ইতিহাসবিদের মতে, তা মূলত সামাজিক ব্যাখ্যার পরিবর্তন।
তাহলে সারকথা একটাই—দেবীর বাহন নিয়ে যত জল্পনা থাকুক, মায়ের আগমন বা গমন কোনোদিনই অমঙ্গল নয়। বরং তা বাঙালির কাছে আনন্দ আর আশীর্বাদেরই প্রতীক।
পুজোর চারদিন তাই কেবল বাহন নয়, আসল তাৎপর্য হলো একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, মায়ের সান্নিধ্যে ভক্তির আবহ তৈরি করা। দেবীর আগমনেই শুভ, গমনেও শুভ।