CPIM Bimal Sinha : ত্রিপুরায় সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সংগ্রামের অন্যতম মুখ, প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সিপিআই(এম) নেতা শহীদ বিমল সিনহার ২৯তম শহীদান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সিপিএম রাজ্য কার্যালয়ে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য কমিটির সদস্য শংকর প্রসাদ দত্ত, নারায়ণ করসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই শহীদ বিমল সিনহা ও তার ভাই বিদ্যুৎ সিনহার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। নেতৃবৃন্দরা তাদের আত্মবলিদানকে স্মরণ করে বলেন, ১৯৯৮ সালের ৩১শে মার্চ কমলপুরের আবাঙ্গা নদীর তীরে সন্ত্রাসবাদীদের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন দুই ভাই। এই ঘটনা তৎকালীন সময়ের সন্ত্রাসবাদী পরিস্থিতির এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে রয়েছে।
বক্তারা জানান, সেই সময় ত্রিপুরার বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ চরম আকার ধারণ করেছিল। বিশেষ করে উপজাতি এলাকাগুলিতে সিপিএম ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে নির্মূল করার লক্ষ্যেই সন্ত্রাসবাদীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ট এই শক্তিগুলি “সাত বোনের ট্রাইবাল রাজ্য” গঠনের স্বপ্ন নিয়ে রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করেছিল।
শহীদ বিমল সিনহা সেই সময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে উঠে আসেন। তিনি শুধু একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, বরং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
নেতারা আরও বলেন, বিমল সিনহা ও বিদ্যুৎ সিনহার মতো বহু কমরেড সেই সময় সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছেন। ধর্মনগর থেকে সাব্রুম পর্যন্ত বহু কর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে, অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সিপিআই(এম) ত্রিমুখী লড়াই চালায়—একদিকে আদর্শগত সংগ্রাম, অন্যদিকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পাশাপাশি উপজাতি এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের প্রসার ঘটানো।
স্মরণসভা থেকে নেতারা বর্তমান সময়েও সন্ত্রাসবাদের হুমকির কথা উল্লেখ করেন। তারা বলেন, আজও বিভিন্নভাবে বিদেশি মদদপুষ্ট শক্তি সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জাতি-উপজাতির ঐক্য বজায় রেখে সকলের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানের শেষে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আদর্শ অনুসরণ করে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প গ্রহণ করা হয়।



