Congress Press Meet : মনরেগা প্রকল্প কার্যত দুর্বল করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে মোদী সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা ও বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। বৃহস্পতিবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, নতুন ভিবি জিরামজি বিল গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী এবং কর্পোরেটদের সুবিধা দিতেই এই বিল আনা হয়েছে।
সুদীপ রায় বর্মণের বক্তব্য, নতুন বিলে ১২৫ দিনের কাজের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ থাকবে কেন্দ্রের হাতে। ফলে রাজ্য সরকারের উপর আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ বাড়বে এবং শ্রমজীবী মানুষ কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তিনি বলেন, মনরেগা আইনে আগে কাজ না পেলে বিডিও-র কাছে লিখিত আবেদন জানিয়ে কাজ দাবি করার অধিকার ছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ না দিলে ভাতা পাওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। নতুন বিলে সেই অধিকার কার্যত তুলে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, “১২৫ দিনের কাজের কথা বলে আসলে শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সারা দেশে গড়ে ৫০ দিনের কাজও দিতে পারেনি মোদী সরকার। আর এখন মানুষ কাজ দাবি করার আইনি ক্ষমতাই হারাবে।” তাঁর মতে, এটি একটি “কালো আইন”, যা গরিবদের স্বার্থে নয়, বরং কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যেই প্রণীত।
সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আরও বলেন, এই বিলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রতিটি কর্মী ও নেতাকে রাস্তায় নামতে হবে এবং মানুষের কাছে গিয়ে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে হবে। ইউপিএ সরকারের সময় খাদ্য সুরক্ষা আইন, শিক্ষার অধিকার, কাজের অধিকার ও স্বাস্থ্যের অধিকারের মতো জনকল্যাণমূলক আইনগুলির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তখন সরকার গরিব ও মেহনতি মানুষের কথা ভেবেই আইন প্রণয়ন করেছিল।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে সুদীপ রায় বর্মণ দাবি করেন, দেশের শাসনব্যবস্থা এখন কর্পোরেটদের নিয়ন্ত্রণে। তাঁর ভাষায়, “এই সরকার আদানি-আম্বানিদের স্বার্থ রক্ষা করছে, গরিব মানুষের নয়।”
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, পীযূষ কান্তি বিশ্বাস সহ কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃত্ব। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই বিলের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি ও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সাংবাদিক বৈঠক থেকে কংগ্রেস স্পষ্টভাবে দাবি করেছে, নতুন ভিবি জিরামজি বিল শ্রমজীবী ও গরিব মানুষের অধিকার খর্ব করার একটি জনস্বার্থ বিরোধী উদ্যোগ। ১২৫ দিনের কাজের প্রতিশ্রুতির আড়ালে কাজের অধিকার ও দাবি জানানোর আইনি পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। কংগ্রেসের মতে, এই বিল রাজ্যগুলোর উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় এই বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সচেতনতা বাড়ানোই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।



