Christmas Celebration 2025 : আজ ২৫শে ডিসেম্বর, বড়দিন। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি যেমন ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনি এটি তাদের প্রধান উৎসবের অন্যতম। প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীর মরিয়ম নগর চার্চে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বড়দিন উদযাপিত হচ্ছে। দিনটিকে কেন্দ্র করে চার্চ প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে সুবিশাল ক্রিসমাস মেলা, যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
মরিয়ম নগরের এই ঐতিহ্যবাহী ক্রিসমাস মেলা প্রথম শুরু হয় ২০০৭ সালে। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। চলতি বছরেও তার ব্যতিক্রম নয়। সকালে চার্চে বিশেষ প্রার্থনা সভার মধ্য দিয়ে বড়দিনের সূচনা হয়। বিকেল গড়াতেই মেলা প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নামতে শুরু করে।
মেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত জানান মেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ। তিনি বলেন, মেলা কমিটির সম্পাদক বিমল মার্চাদসহ তিনজন ক্যাশিয়ার বর্তমানে মেলা প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালন করছেন। ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ব্যবসায়ীদের জন্য সুষ্ঠুভাবে দোকান বণ্টন ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় কাউন্সিলর উত্তম কুমার ঘোষ এবং পাঁচকো বিধানসভা কেন্দ্রের জনপ্রিয় বিধায়ক রতন চক্রবর্তীর সহযোগিতায় মেলায় দোকানদার ও দর্শনার্থীদের জন্য খাওয়ার জল, বিদ্যুৎ এবং সুলভ মূল্যের নানা পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো ব্যবসায়ী বা দর্শনার্থীর অসুবিধা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে মেলা কমিটি।
কোষাধ্যক্ষ বলেন, প্রভু যীশু খ্রিস্টের জন্ম উপলক্ষে এই মেলার আয়োজন। বিশ্বাস অনুযায়ী, ২৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতের পরেই যীশু খ্রিস্টের জন্ম হয়। সেই আনন্দ ও উৎসবের অংশ হিসেবেই এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের মতে, এবছর মেলায় দুই দিনে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হতে পারে। মেলা চলবে ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২৬ ডিসেম্বর মধ্যরাতের পর মেলা কমিটির সম্পাদক আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করবেন। বড়দিন উপলক্ষে মরিয়ম নগরের এই মেলা আবারও সম্প্রীতি, আনন্দ ও উৎসবের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
মোটের উপর, মরিয়ম নগরে বড়দিন উপলক্ষে আয়োজিত এই ক্রিসমাস মেলা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের অংশ নয়, বরং এটি সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক মিলনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দীর্ঘ ১৮ বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলা এই মেলা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবের রূপ নিয়েছে।
প্রার্থনা, আনন্দ ও মানবিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বড়দিনের মূল বার্তা—ভালোবাসা ও শান্তি—এই মেলার মাধ্যমে আরও একবার সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।



