Charilam Shahid Mia : ত্রিপুরায় সিপাহীজলা জেলার বিশালগড় মহকুমা ধীন চড়িলাম বিধানসভা কেন্দ্র ২০২২ সালে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সন্ত্রাসের সাক্ষী থাকে। জনজীবনের দাবি নিয়ে ব্লক এর উদ্দেশ্যে ডেপুটেশনের মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় চরিলাম বাজারে দুষ্কৃতি হামলার স্বীকার হয়ে নিহত হয়েছিলেন প্রবীণ বাম কর্মী শহীদ মিয়া।
সে সময় শহীদ মিয়ার সাথে আরও বেশ কিছু বাম কর্মীদের মেরে ক্ষত বিক্ষত করে দুষ্কৃতীরা। তখন অভিযোগ উঠে শাসক দলীয় দুর্বৃত্ত বাহিনীই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। যাতে চড়িলাম মণ্ডল এর বেশ কিছু চেনা মুখ সামিল ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল।
আজ প্রায় ৩ বছর অতিক্রান্ত হতে চলছে। কিন্তু শহীদ মিয়ার দোষীরা আজো অধরা। পুলিশ প্রশাসন ঠুঁটো জগন্নাথ। মামলা করলেও কর্ণপাত করেন নি পুলিশ। কারণ তাদের মাথার উপর ক্ষমতা খাটানো দাদা দের কড়া নির্দেশ আছে, দোষী দের ধরা যাবে না।
এদিকে আজো শহীদ মিয়ার দোষী দের বিচার চেয়ে তার পরিবার পরিজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন । কিন্তু সেই খবর কেউই রাখেন না। এদিকে ৩০শে নভেম্বর ২০২৫, রবিবার চড়িলাম এর বাম কর্মীরা শহীদ মিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পার্টি অফিসের সামনে এক স্মরণ সভার আয়োজন করেন।
সেখানে উনার প্রতিকৃতিতে ফুল মাল্য প্রদান করেন বাম কর্মীরা। উনার জীবন বলিদান রাজ্যের মানুষ কোনোদিন ভুলবেন না। ভুলবেন না কিভাবে চড়িলাম এর প্রকাশ্য বাজারে দিবালোকে দুর্বৃত্ত দের হাত নিরীহ শহীদ মিয়ার রক্তে লাল হয়ে গেছিলো। মানুষ ভুলবেন না সেই মুখ গুলো যারা মুখে দেশ ভক্তি ও মানবিকতার শ্লোগান তুলে, কিন্তু অন্তরে তাদের কেবল মাত্র জাতি গত, ধর্ম গত বিষ।
এদিন বিশ্রামগঞ্জ পার্টি অফিসের সামনে শহীদ মিয়ার মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপন করে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নেতৃত্বরা এদিন আবারো দাবী রাখেন শহীদ মিয়ার দোষীরা সাঁজা পাক। ইতিহাস কখনো মুছে যায়না। বাম আমল, জোট আমল এর সন্ত্রাস যেমন মানুষ তিলে তিলে মনে রেখেছে তেমনি বিগত ৭ বছরের রাম রাজত্ব ও মানুষ দেখেছে ও মনে রেখছে সব কিছুই।
সময়ের চাকা কখন কিভাবে বদলে যায় তা বলা দায়। তবে সময় বদলে গেলে আজ যারা সন্ত্রাসী তারাই আগামী কাল হয়ে দাঁড়াবে কারাবাসী। বিচার এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।



