Budget for Content Creators : দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নতুন প্রজন্ম কে শিক্ষা গত দিক থেকে পঙ্গু করে দিতে কি ভয়াবহ পরিকল্পনা চলছে, সেটা ঘুনাক্ষরেও টের পাচ্ছেন না এই মুহূর্তে দেশের মানুষ। একটা বাজেট, যাতে যুবা দের জন্যে বিশেষ কোনো সুযোগ এর উল্লেখ নেই। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ কিছু ল্যাব তৈরির জন্যে দের হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ আছে। আর এটাই সেই তুরুপের তাস, যা দিয়ে আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কে পঙ্গু করে দেবার একটা গভীর চক্রান্ত চলছে।
কিভাবে ? শুনুন ।
নেলসন মেন্ডেলার একটি প্রসিদ্ধ উক্তি আছে। একটি রাষ্ট্র কে ধ্বংস করতে কোনো মিসাইল এর প্রয়োজন নেই। সে রাস্ত্রের শিক্ষার অবস্থান কে ধ্বংস করে দিন, ১০-২০ বছরে সেই রাষ্ট্র এমনিতেই ধ্বংস হয়ে যাবে। আজ সেই উক্তি ভারত বর্ষের ক্ষেত্রে যেন অক্ষরে অক্ষরে সত্য বলে মনে হচ্ছে।
বাজেটে ১৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর দের জন্যে। এই ১৫০০ কোটি টাকা দিয়ে দেশে আগামী এক বছরে ১৫০০ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ও ৫০০ টি বিভিন্ন কলেজে ল্যাব নির্মিত হবে। আর সেই ল্যাবে ছেলে মেয়েদের শেখানো হবে কিভাবে গ্রাফিক্স, গেমিং, এআই ইত্যাদি নিয়ে কাজ করা যায়। এবার প্রশ্ন উঠতেই পারে, যে ডিজিটাল যুগে এত এক ধরনের অতি উত্তম পদক্ষেপ। তাহলে ভুল কোথায় ? চক্রান্ত কোথায় ? তাহলে শুনুন –
মাধ্যমিক বিদ্যালয় অর্থাৎ ক্লাস ১০ অব্দি যে ছেলে মেয়েরা পড়াশুনা করছে তাদের শিক্ষা সূচি তে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এই বিষয়। ১৬ বছর বয়স হবার আগেই ছেলে মেয়েদের মস্তিস্কে ঢুকে পরবে গেমিং, এআই , গ্রাফিক্স ডিজাইন এর মত বিষয়। যা এই বয়সে যে কোনো শিশুর মস্তিস্কে এক অন্য মাত্রার উন্মাদনা সৃষ্টি করবে। আর তার প্রমান ইতিমধ্যেই মিলেছে। ইউপি ( উত্তর প্রদেশে) তে অনলাইন গেমিং খেলায় বারণ করাতে মা বাবার সাথে অভিমান করে ১০ তলা বিল্ডিং থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে ১২,১৪ এবং ১৬ বছর বয়সী তিন বোন। এই ঘটনা চোখে আগুন দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে এই বয়স কালে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন গেমিং কতটা ক্ষতি কর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
অন্যদিকে ৫০০ টি কলেজে ও এই ল্যাব নির্মাণ হবে। উচ্চ শিক্ষা স্তরে যেকোনো ছাত্র / ছাত্রী তার ভবিষ্যৎ এর দিশা নির্ধারণ করে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি মা বাবাই চান তার ছেলে বা মেয়ে একজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সায়েন্টিস্ট কিংবা, শিক্ষক, আইপিএস, আইএএস এর মত চাকরি করে। কিন্তু ঠিক এই বয়সে তাদের মাথায় এআই, গেমিং, গ্রাফিক্স এর মত বিষয় গুলি ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের দিশা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেবার একটা সুপরিকল্পিত চক্রান্ত এই বাজেট।
আজকাল দিকে দিকে তাকালেই বেকারত্ব বাড়ছে। একাংশ মোবাইল হাতে নিয়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এর কাজ করছে। যা এক প্রকার নেশায় পরিণত হয়েছে। মোবাইল এর প্রতি আশক্তি ও কন্টেন্ট ক্রিয়েট করার নেশা দুটোই মারাত্মক আকার নিয়েছে। আর বর্তমান সরকার সেই টাকেই ঢাল করে কাজে লাগাচ্ছে।
শিক্ষা গত যোগ্যতা কম হলে, সরকারি চাকুরির জন্যে একদিকে প্রতিযোগিতা কমবে। আউটসোর্সিং বাড়ানো হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মত সাহস কিংবা যোগ্য লোক থাকবে না। শিক্ষাগত দিক থেকে একটা গোটা প্রজন্ম কে দুর্বল এবং পঙ্গু করে দিয়ে অনির্দিষ্ট কালের জন্যে রাজত্ব চালাবে একাংশ স্বার্থান্বেষী। আর এটাই হচ্ছে ২০২৬-২৭ বাজেট এ নিহিত এই ১৫০০ কোটি টাকার খরচের হিসেব।
এবার আপনারাই ভাবুন, আপনার ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ গঠনে আদৌ দেশের এই বর্তমান সরকার কতটা সঠিক।



