Biswa Hindu Parishad Protest : বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর মৌলবাদী হামলা ও সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু যুবক দিপু চন্দ্র দাসের হত্যার প্রতিবাদে আগরতলায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দল। বুধবার দুপুরে আগরতলার আনন্দময়ী কালীবাড়ি থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ র্যালি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ অতিক্রম করে আখাউড়া চেকপোস্টে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। তারা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে চরমপন্থী মৌলবাদীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে এবং তার সরাসরি শিকার হচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
বক্তারা দাবি করেন, ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশ্য রাস্তায় এক হিন্দু যুবককে নির্মমভাবে হত্যা ও দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা সমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তারা বলেন, নোয়াখালী জেলার বালুকা উপজেলায় দিপু চন্দ্র দাসকে ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে হত্যা করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ বা নির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসেনি বলেই তাদের দাবি। সংগঠনের মতে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে অজুহাত করে হিন্দুদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
বিক্ষোভে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক নেতা বলেন, “১৯০০ সাল থেকে শুরু করে ২০২১, ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ এমনকি ২০২৫ সালেও বাংলাদেশের হিন্দুরা নিরাপদ নয়। চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে হিন্দু হত্যার ঘটনা ঘটছে বলে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে উঠে আসছে।” তিনি আরও বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসব খবর প্রকাশিত হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
এই বিক্ষোভ থেকেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়। বিক্ষোভকারীরা জানান, তারা বাংলাদেশের প্রশাসনকে বার্তা দিতে চান যে, সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে তারা নীরব থাকবে না। একই সঙ্গে ভারত ও বিশ্বের সনাতনী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পরিস্থিতির উপর প্রশাসনের কড়া নজর রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।



