Bishalgarh HS School : বিশালগড় হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল, যা একসময় শিক্ষার আলো ছড়াবার জন্য পরিচিত ছিল, আজ তা ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে নেশার আখড়ায়। স্কুলের চারপাশে সুরক্ষিত বাউন্ডারি না থাকার সুযোগে, বহিরাগতদের জন্য এই প্রতিষ্ঠান পরিণত হয়েছে খোলা জায়গার ডাস্টবিনে। প্লাস্টিকের বোতল থেকে শুরু করে নেশাজাত সামগ্রী, এমনকি ইঞ্জেকশনের সুচ পর্যন্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় ক্যাম্পাসজুড়ে।
প্রতিদিন সকালবেলা ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে শিক্ষকরা নেশা-বিরোধী শপথ করালেও, সেই শপথ যেন মাটিতে মিশে যায় ক্যাম্পাসের বাস্তব চিত্র দেখে। নিজেরাই চোখে দেখে স্কুল প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে থাকা মাদকদ্রব্য। অনেকেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে—শিক্ষালয় যদি এমন হয়, তবে ভবিষ্যতের প্রজন্মকে আসক্তির অন্ধকার থেকে দূরে রাখা কতটা সম্ভব?
প্রধান শিক্ষকের দাবি, সমস্যাটি শিক্ষা দপ্তরকে জানানো হয়েছে প্রায় ছয় মাস আগে। কিন্তু তবুও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরাও এ বিষয়ে নিরব। ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। অনেকেই সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
গ্রামবাংলার প্রবাদে আছে—“যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ।” বাস্তবে তেমনই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বিশালগড় স্কুলে। শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত মাদকদ্রব্যের ভয়ঙ্কর উপস্থিতি দেখেও অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। তাদের মধ্যে ভয় এবং অনাস্থা তৈরি হচ্ছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে আরও বিষাক্ত করে তুলছে।
এখন মূল প্রশ্ন—সরকার ও প্রশাসন কি এই সংকট সমাধানে তৎপর হবে? মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ে নজর দেবেন কিনা, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে এলাকায়। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ আশা করছে অন্তত এখন প্রশাসন সক্রিয় হবে, যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ফিরে আসে এবং ছাত্রছাত্রীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে।