Bhanu Lal Saha : দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াইয়ের শেষে অবশেষে বেকসুর খালাস হলেন কমলাসাগর মণ্ডলের সদস্য ও তৎকালীন বিজেপি নেতা সৈকত দেবনাথ। ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিশালগড়ের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা তাঁর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বিশালগড় থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং পরে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।
বিশালগড় মহকুমা আদালতে দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত জানায়—ভানুলাল সাহার অভিযোগ যথেষ্ট ভিত্তিহীন। ফলে বৃহস্পতিবার আদালত সৈকত দেবনাথকে সম্পূর্ণ বেকসুর খালাস ঘোষণা করে।
রায় ঘোষণার পর কমলাসাগর মণ্ডল ও বিজেপি যুব মোর্চার কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। মণ্ডল সভাপতি কাজল সরকার ও সহ-সভাপতি দীপ্তনু দাস জানান, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে বিজেপি কর্মীদের দমন করার জন্য বহু নেতাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হত। সেই ধারাবাহিকতায় সৈকত দেবনাথও অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছিল বলে তাদের অভিযোগ।
দীপ্তনু দাস বলেন, “২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর কিছু দুষ্কৃতিকারীর দ্বারা ভানুলাল সাহার ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটানো হয়। অথচ সেই ঘটনার দায় অযথাই চাপানো হয় সৈকত দেবনাথের ওপর। আমরা বছরের পর বছর আদালতে ন্যায়ের আশায় উপস্থিত থেকেছি। আজ আদালত সত্যকে প্রতিষ্ঠা করেছে।”
রায়ের পর বিজেপি যুব মোর্চার কর্মীরা সৈকত দেবনাথকে ফুলমাল্য দিয়ে সংবর্ধনা জানান এবং শোভাযাত্রার মাধ্যমে কমলাসাগরে নিয়ে যান। নেতাকর্মীদের বক্তব্য—এই রায় প্রমাণ করেছে যে আইন ও গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা আজও অটুট।
তারা আরও সতর্কবার্তা দেন যে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর আগে বিরোধী দলগুলোর “সাতবার চিন্তা করা উচিত”।
সৈকত দেবনাথ বলেছেন, আদালতের রায়ে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন এবং ন্যায়বিচারের জন্য তিনি সবসময় আইনের উপর আস্থা রেখেছেন।



